পাকিস্তান-আফগানিস্তান ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা
পোস্ট ডেস্ক :

আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুনার প্রদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও মর্টার হামলা চালিয়েছে পাক বাহিনী। এতে নিহত হয়েছে অন্তত সাতজন, আহত ৮০ জনের বেশি।
তালেবানের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেছেন, প্রাদেশিক রাজধানী আসাদাবাদসহ এর আশেপাশের জেলাতে পাকিস্তানি বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
আফগানিস্তানের উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সায়েদ জামালউদ্দিন আফগানি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাক হামলায়- এর ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ও প্রফেসর আহত হয়েছেন।
ফিতরাত এই হামলাকে বেসামরিক এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষমাহীন যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে পাক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়নি। পাকিস্তানের হামলা নির্ভুল এবং গোয়েন্দা ভিত্তিক ছিল। তবে আফগান ভূখণ্ডে হামলা কথা অস্বীকার করেনি পাকিস্তান।
আফগান এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে আল জাজিরাকে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও উভয় দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি চলছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান কর্তৃপক্ষ যে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এতে করে দুই দেশের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও ভেঙে পড়বে।
তাই নতুন করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। দেশটি সেই সময় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘খোলা যুদ্ধের’ ঘোষণা দেয়।
তবে চীনের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের শুরুর দিকে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক হলেও কোনো যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। তাই নতুন করে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লো।




