গাজীপুরে স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

Published: 9 May 2026

পোস্ট ডেস্ক :


গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন, ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের বড় মেয়ে মীম (১৫), মেজ মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট ছেলে ফরিদ (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার সদর এলাকায়। ফোরকান মিয়া স্ত্রী ও ৩ সন্তান নিয়ে ওই বাড়ির নিচ তলায় ভাড়া থাকেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় সপরিবারে ভাড়া থাকতেন পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে ঘরের ভেতর মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।সংবাদ বুলেটিন

মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন সন্তানের গলাকাটা লাশ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তিন সন্তানের গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ ছিল বিছানার ওপর। শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় মরদেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

হত্যাকারী কে, যা বলছে পুলিশ

এই পাঁচজনকে নির্মমভাবে কে বা করা হত্যা করেছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি এখনো। তবে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের জেরে নিহত শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন। হত্যার কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যুবাইর হোসেন জানান, পলাতক ফোরকান মিয়া প্রাইভেটকার চালক। তিনি প্রায় এক বছর আগে রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী ও সন্তানসহ বসবাস করছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং সন্দেহভাজ ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে।