ব্রিটিশ-বাংলাদেশীদের জয়জয়কার
এম. হাসানুল হক উজ্জ্বল।।

ব্রিটেনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভুমিধ্বস পরাজয় এবং রিফর্মের উত্থানের পর সরকারের ঘরে বাহিরে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। ওদিকে, ভাল ফল করে এগিয়ে আছে নাইজেল ফারাজের জনবাদী ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে।
এদিকে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এ-চতুর্থ বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছেন এ্যাসপায়ার পার্টির লুৎফুর রহমান এবং নিউহামের নতুন নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন। তিনি যুক্তরাজ্যের মূলধারার বড় রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। ফরহাদ লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত চার বরো (স্থানীয় কর্তৃপক্ষ) টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ ও বার্কিং এন্ড ড্যাগেনহামে ৮০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইংল্যান্ডের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। এবারের নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে এবং গ্রিনস পার্টির নাটকীয় উত্থান এবং লেবার ও কনজারভেটিভ উভয় দলের ব্যাপক ধ্বস এখন বিশ^ব্যাপী আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে, তারা ১,৪৯৬ জন কাউন্সিলর এবং ৩৮টি কাউন্সিল হারিয়েছে, অন্যদিকে কনজারভেটিভরাও পিছিয়ে পড়েছে, তারা ৫৬৩ জন কাউন্সিলর এবং ছয়টি কাউন্সিল হারিয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা সামান্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তাদের পাল্লায় ১৫৫ জন কাউন্সিলর যোগ হয়েছে এবং একটি অতিরিক্ত কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি হলো রিফর্ম ইউকে-র নাটকীয় সাফল্য। দলটি ১৪৫১ জন কাউন্সিলর পেয়েছে। ফলে তাদের মোট কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৫৩জন পাশাপাশি তারা ১৪টি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। যা আগে তাদের দখলে ছিল না। গ্রিনস পার্টিও আকাশচুম্বি ফলাফল করেছে। তারা ৪৪১ জন কাউন্সিলরকে বিজয়ী করেছে। এদিকে, ৬৪টি কাউন্সিল বর্তমানে কোনো সার্বিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে নেই, যা আগের ফলাফলের চেয়ে ২৩টি বেশি।
এদিকে মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রে, কনজারভেটিভরা ক্রয়েডন ধরে রেখেছে, অন্যদিকে গ্রিন পার্টি হ্যাকনি ও লুইশাম দখল করেছে। লেবার ও অ্যাস্পায়ার যথাক্রমে নিউহ্যাম ও টাওয়ার হ্যামলেটস ধরে রেখেছে এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ওয়াটফোর্ড ধরে রেখেছে।
লেবার পার্টি মধ্য ও উত্তর ইংল্যান্ডে তাদের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিগুলোসহ লন্ডনেরও বেশ কিছু এলাকার ভোটে শত শত কাউন্সিল আসন খুইয়েছেন।
অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকে ইংল্যান্ডে জিতে নিয়েছে ৩০০’রও বেশি কাউন্সিল আসন। স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলশেও তারা ভাল ফল করছে। ভোটের এই চিত্র লেবার পার্টির জন্য শোচনীয়।
এবারের স্থানীয় নির্বাচন ছিল ২০২৯ সালে যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের আগে স্টারমার সরকারের জন্য এক বড় ধরনের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা।
এই নির্বাচনে গ্রেটার মানচেস্টারের টামসাইড কাউন্সিল এলাকায় প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম হেরে গেছে লেবার পার্টি। সেখানকার সব আসনই জিতে নিয়েছে রিফর্ম ইউকে পার্টি।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, চার বরোতেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অধিকাংশই মূলধারার বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে স্বতন্ত্র ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে টাওয়ার হ্যামলেটসে। এই বরোটিতে এসপায়ার পার্টি মনোনীত কাউন্সিলররা বড় জয় পেয়েছেন। ৪৫ সদস্যের কাউন্সিলে দলটি ৩৩টি আসনে জয় পেয়ে রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই ৩৩ জনের সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাচিত কাউন্সিলরের সংখ্যাও এখানে সবচেয়ে বেশি।
এ ছাড়া এখানে তিনজন লেবার পার্টি থেকে এবং একজন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুর রহমান। তিনি ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়ে লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলামকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।
২০২৬ সালেরটাওয়ার হ্যামলেটস : ২০২৬ সালের টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচনে লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এসপায়ার পার্টি এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারা বরোটিতে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
কাউন্সিলের মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে এসপায়ার পার্টি একাই ৩৩টি আসন লাভ করেছে। এর আগে ২০২২ সালের নির্বাচনে তারা ২৪টি আসন পেয়েছিল, অর্থাৎ এবার তারা আরও ৯টি আসন বাড়িয়ে নিয়েছে।
দলের নেতা লুৎফুর রহমান ৩৫,৬৭৯ ভোট (৩৮.৮%) পেয়ে পুনরায় নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির প্রার্থীর চেয়ে ১৬,২২৫ ভোট বেশি পেয়েছেন।
কে কত টি কাউন্সিলর পদ পেয়েছে
৪৫টি আসনের মধ্যে এসপায়ার ৩৩, লেবার পার্টি ৫, গ্রিন পার্টি ৫, কনজারভেটিভ পার্টি ১, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ১।
উল্লেখ্য ২০২২ সালের ৫ মে অনুষ্ঠিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচনে এসপায়ার পার্টি বিশাল জয়লাভ করে কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিল।
বরোটিতে লেবার পার্টির সমর্থন নাটকীয়ভাবে কমেছে। তারা ১৯টি আসনের মধ্যে ১৪টিই হারিয়ে মাত্র ৫টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে ।
গ্রিন পার্টির উত্থান
গ্রিন পার্টি তাদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে, বিশেষ করে বো ইস্ট ও বো ওয়েস্ট ওয়ার্ডের সবকটি আসনে জয়লাভ করে তারা ৫টি আসন লাভ করেছে ।কনজারভেটিভরা আইল্যান্ড গার্ডেনস ওয়ার্ডে তাদের একমাত্র আসনটি ধরে রেখেছে এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা শ্যাডওয়েল ওয়ার্ডে একটি আসন পাওয়ার মাধ্যমে কাউন্সিলে পুনরায় প্রতিনিধিত্ব ফিরে পেয়েছে।
লেবার পার্টির বড় বিপর্যয়
টাওয়ার হ্যামলেটসে ২০২৬ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির এই বিপর্যয় দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং সবচেয়ে বড় পরাজয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে তারা ধাক্কা খেলেও এবারের মতো এত কম আসনে কখনও সংকুচিত হয়নি।
এ বারের নির্বাচনে লেবার পার্টি মাত্র ৫টি আসন পেলেও ২০২২ সালে ১৯টি আসন পেয়েছিল, যা ছিল তখন পর্যন্ত তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন আসন সংখ্যা। ২০২৬-এ সেই রেকর্ড ভেঙে তারা আরও ১৪টি আসন হারিয়েছে ।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুৎফুর রহমানের এসপায়ার পার্টি ২৪টি আসন জিতে লেবারকে ১৯ আসনে নামিয়ে এনেছিল। তার আগে ২০১৮ সালে লেবার পার্টির দখলে ছিল ৪৫টির মধ্যে ৪২টি আসন। ২০১৮ সালে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র ছিলেন লেবার পার্টির জন বিগস।
২০১৪ সালেও লেবার পার্টি একবার কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল (তৎকালীন ‘টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্ট’-এর উত্থানের কারণে), তবে তখন তারা ২২টি আসন নিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল । ২০১৪ সালে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র ছিলেন লুৎফুর রহমান।
তিনি সেই বছর ২২ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর নবগঠিত দল ‘টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্ট’ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০১০ সালের ৬ মে অনুষ্ঠিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টি মোট ৪১টি আসন পেয়েছিল। এছাড়া কনজারভেটিভ পার্টি ৮টি আসন,লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ১টি আসন ,রেসপেক্ট পার্টি ১টি আসন পেয়েছিল। ২০১০ সালে লেবার পার্টি এর আগের নির্বাচনের তুলনায় ১৫টি আসন বেশি পেয়ে কাউন্সিলে তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করেছিল।
২০১০ সালের ২১ অক্টোবর টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী মেয়র ছিলেন লুৎফুর রহমান। সে বছর টাওয়ার হ্যামলেটসে প্রথমবারের মতো সরাসরি মেয়র নির্বাচনের পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। লুৎফুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ভোটের ৫১.৭৬% (২৩,২৮৩ ভোট) পেয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন লেবার পার্টির হেলাল আব্বাস। তিনি ১১,২৫৪ ভোট পেয়েছিলেন।
লুৎফুর রহমান মূলত লেবার পার্টির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে দল তাকে প্রত্যাহার করে নিলে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে জয়ী হন।
উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত একটি গণভোটের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দারা সরাসরি মেয়র নির্বাচনের ব্যবস্থার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, সরাসরি নির্বাচিত মেয়র হওয়ার আগে লুৎফুর ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত লেবার পার্টির হয়ে কাউন্সিল লিডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে ব্রিটিশ বাংলাদেশী বিজয়ী হলেন যারা : আইল্যান্ড গার্ডেনস ওয়ার্ডে সাদিকুর রহমান (এ্যাসপায়ার পার্টি), ব্ল্যাকওয়াল অ্যান্ড কিউবিট টাউন ওয়ার্ডে
মিনারা খাতুন (এ্যাসপায়ার পার্টি), আহমদুর রহমান খান (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং বেলাল উদ্দিন (এ্যাসপায়ার পার্টি), উইভার্স ওয়ার্ডে কবির আহমেদ (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং আমিনা আলী (লেবার), বেথনাল গ্রিন ওয়েস্ট ওয়ার্ডে মুস্তাক আহমেদ (এ্যাসপায়ার পার্টি), আবু তালহা চৌধুরী (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং মিরাজ আমিন রহমান (এ্যাসপায়ার পার্টি), ল্যান্সবারি ওয়ার্ডে ইকবাল হোসাইন (এ্যাসপায়ার পার্টি), ফয়সাল আহমেদ (এ্যাসপায়ার পার্টি), এবং আবুল মনসুর (এ্যাসপায়ার পার্টি), বেথনাল গ্রিন ইস্ট ওয়ার্ডে সাঈদ তারেক আবদুল্লাহ (এ্যাসপায়ার পার্টি), হালিমা ইসলাম (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং আহমদুল কবির (এ্যাসপায়ার পার্টি) , ক্যানারি হোয়ার্ফ ওয়ার্ডে সাঈদ আহমেদ (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং মোহাম্মদ মাইউম মিয়া তালুকদার (এ্যাসপায়ার পার্টি), স্পিটালফিল্ডস অ্যান্ড বাঙলাটাউন ওয়ার্ডে ফয়সাল আহমেদ (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং সুলুক আহমেদ (এ্যাসপায়ার পার্টি), ব্রোমলি সাউথ ওয়ার্ডে বদরুল ইসলাম চৌধুরী (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং শুভ হোসেন (লেবার পার্টি), ব্রোমলি নর্থ ওয়ার্ডে মোহাম্মদ ইলিয়াস (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং আবদুল মান্নান (এ্যাসপায়ার পার্টি), হোয়াইটচ্যাপেল ওয়ার্ডে শাফি আহমেদ (এ্যাসপায়ার পার্টি), আবুল কাশেম হেলাল (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং কামরুল হোসেন (এ্যাসপায়ার পার্টি), সেন্ট ক্যাথারিনস অ্যান্ড ওয়াপিং ওয়ার্ডে আবদাল উল্লাহ (লেবার পার্টি), স্টেপনি গ্রিন ওয়ার্ডে সাবিনা আখতার (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ আলী (এ্যাসপায়ার পার্টি) , সেন্ট ডানস্টানস ওয়ার্ডে শাফিক ইসলাম (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং শেনালি মিয়া (এ্যাসপায়ার পার্টি, শ্যাডওয়েল ওয়ার্ডে মোহাম্মদ হারুন মিয়া (এ্যাসপায়ার পার্টি) এবং রাবিনা খান (লিবারেল ডেমোক্র্যাটস), মাইল এন্ড ওয়ার্ডে রুজি খানম (এ্যাসপায়ার পার্টি), মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ (এ্যাসপায়ার পার্টি),
অন্যদিকে নিউহামেও বাংলাদেশি প্রার্থীরা বড় সাফল্য পেয়েছেন। বরোটিতে নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলরদের মধ্যে ১২ জন নিউহাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি থেকে, ৬ জন লেবার পার্টি থেকে এবং একজন গ্রীন পার্টির হয়ে জয় পেয়েছেন।
একই সঙ্গে রেডব্রিজেও বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে নির্বাচিত বাংলাদেশি কাউন্সিলরদের মধ্যে ৯ জন লেবার পার্টি থেকে এবং ৫ জন স্বতন্ত্র ল প্ল্যাটফর্ম থেকে জয় পেয়েছেন। বিশেষ করে ইলফোর্ডকেন্দ্রিক বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাংলাদেশি প্রার্থীদের প্রভাব আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে নির্বাচিত বাংলাদেশি কাউন্সিলরদের মধ্যে ৮ জন লেবার পার্টির এবং ২ জন গ্রীন পার্টির হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
পূর্ব লন্ডন ছাড়াও লন্ডনের অন্যান্য বরো ইলিং, ক্রয়ডন, ব্রেন্ট, বামিংহাম, ম্যানচেষ্টার, নিউক্যাসলসহ বিভিন্ন আসনে আরো ৩০ এর অধিক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী বিভিন্ন দলের পক্ষ নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় সাফল্য। এই নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে তিন শতাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হয়েছিলেন।
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিরা তাঁদের অভিবাসন যুগের শুরু থেকে পূর্ব লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। এই চার বরোতেই উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি জনসংখ্যা রয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলাদেশিদের অনুপাত প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। নিউহামে ৪০ থেকে ৫০ হাজার, রেডব্রিজে প্রায় ৩০ হাজার এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে।
বার্মিংহামে বাংলাদেশি প্রার্থীদের দাপুটে বিজয় : ব্রিটেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী বার্মিংহামে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি নতুন করে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে ছয়জন বাংলাদেশি প্রার্থী বিজয়ী হয়ে শহরের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি দৃশ্যমান অগ্রগতির বার্তা দিয়েছেন।
নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন, আস্টন ওয়ার্ড থেকে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সাংবাদিক আব্দুল মঈন চৌধুরী সুমন এবং বর্তমান কাউন্সিলর মমতাজ হোসেইন। এর মধ্যে সুমন চৌধুরী প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনী অঙ্গনে চমক সৃষ্টি করে বিজয়ের স্বাদ পান।
অন্যদিকে মমতাজ হোসেইন, যিনি পূর্ববর্তী নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি নারী কাউন্সিলর হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন, এবার লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিজয় নিশ্চিত করেছেন।
লজেলস ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন তাজ উদ্দিন। নিউ টাউন ওয়ার্ডে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন রাশিদা বেগম। গেরেটস গ্রিন ওয়ার্ডে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সাদেক মিয়া সমসু।
একইভাবে টাইসলি ও হাইগেট ওয়ার্ডে গ্রিন পার্টির হয়ে জয়ী হয়েছেন আতিকুর রহমান।
নিউহ্যাম কাউন্সিল : বেকটন : সৈয়দ আহমেদ (লেবার পার্টি), বো-লেইন : মুহাম্মদ তারেক আজিজ (নিউহাম ইনডিপেনডেন্টস পার্টি), ক্যানিং টাউন নর্থ : আলেয়া হোসাইন (লেবার পার্টি), ইস্ট হ্যাম : আবদুল হালিম (নিউহাম ইনডিপেনডেন্টস পার্টি), ইস্ট হ্যাম সাউথ : সানাওয়ার হোসাইন (লেবার পার্টি), গ্রিন স্ট্রিট ইস্ট : সানি চৌধুরী (নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্টস পার্টি), মোঃ জাকির হোসেন (নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্টস পার্টি), রহিমা রহমান (লেবার পার্টি), লিটল ইলফোর্ড : ওলি রহমান (নিউহাম ইনডিপেনডেন্টস পাটি), নাসরিন শামীমা (নিউহাম ইনডিপেনডেন্টস পাটি), ম্যানর পার্ক : সালেহা খাতুন (লেবার পার্টি), প্লেইস্টো নর্থ : নিজাম আলী (নিউহাম ইনডিপেনডেন্টস পাটি), জুলফিকার আলী (লেবার পার্টি), প্লেইস্টো দক্ষিণ : এমডি নজরুল ইসলাম (নিউহাম ইনডিপেনডেন্টস পার্টি) তামজীদ হোসেন খান (নিউহাম ইনডিপেনডেন্টস পাটি), ওয়েস্ট হ্যাম : ইব্রাহিম আলম – গ্রিন পার্টি।
এদিকে নিউহাম কাউন্সিলের সভায় নির্বাচিত কাউন্সিলারদের প্রত্যক্ষ ভোটে চেয়ার অব দ্যা কাউন্সিল বা সিভিক মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন রহিমা। রহিমা রহমান নিউহাম কাউন্সিলের পাঁচবারের নির্বাচিত কাউন্সিলার।
এদিকে নিউক্যাসল কাউন্সিলের গ্রীন পার্টির জয়জয়কার। এখানে এই পার্টি থেকে চারজন ব্রিটিশ বাংলাদেশী বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন, রওশন উদ্দিন (গ্রিন পার্টি), খালেদ মোশাররফ (গ্রিন পার্টি), হালিমা বেগম (গ্রিন পার্টি), মোহাম্মদ জামাল সরোয়ার (গ্রিন পার্টি)।
ম্যানচেস্টার : ওল্ডহাম থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, মুহিবুল্লাহ আবু তালেব এবং ব্রেডফোর্ডে হাসান খান,




