যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস স্টেশনে হ্যাক

Published: 16 May 2026

পোস্ট ডেস্ক :


যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্যে গ্যাস স্টেশনের জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ট্যাংক মনিটরিং সিস্টেমে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলার পেছনে ইরানি হ্যাকারদের হাত থাকতে পারে। হ্যাকাররা অটোমেটিক ট্যাংক গেজ (এটিজি) নামের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করেছে। তারা ট্যাংকের জ্বালানির পরিমাণের ডিসপ্লে ডেটা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। যদিও বাস্তবে জ্বালানির পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই সাইবার অনুপ্রবেশে কোনো শারীরিক ক্ষতি বা দুর্ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাড়ছে ইরানের সাইবার হামলা: পূর্ববর্তী সাইবার কার্যক্রমের ইতিহাসের কারণে ইরানকে এই হামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্তভাবে কোনো পক্ষকে দায়ী করা সম্ভব হয়নি, কারণ হামলাকারীরা পর্যাপ্ত ফরেনসিক প্রমাণ রেখে যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আসছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইরান সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সাইবার তৎপরতা আরও বেড়েছে এবং তারা দ্রুতগতিতে বিভিন্ন হ্যাকটিভিস্ট পরিচয়ের হামলা ও তথ্য ফাঁসের কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফিশিং ও ম্যালওয়্যার ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ঘনিষ্ঠ সাইবার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন পানি ও জ্বালানি অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত। ইসরাইলি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাইবার হামলার পরিমাণ ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলেও হ্যাকাররা সুযোগ পেলেই আক্রমণ চালাচ্ছে।

যা বলছে বিশ্লেষকরা: ইরানের সাইবার কৌশল এখন আরও দ্রুত, স্তরভিত্তিক এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারের দিকে এগুচ্ছে বলে মত দিয়েছে বিশ্লেষকরা। তারা সতর্ক করেছেন যে ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে। এই ধরনের সিস্টেমে প্রবেশাধিকার পেলে ভবিষ্যতে গ্যাস লিক বা অন্যান্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি নজরদারির বাইরে চলে যেতে পারে। এতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও বিদেশি সাইবার হস্তক্ষেপের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পূর্বের নির্বাচনে ইরান-সম্পর্কিত সাইবার কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছিল। ভবিষ্যতেও একই ধরনের তথ্যভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে কম খরচে চালানো যায় এবং বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম।