পশ্চিমবঙ্গে বিপর্যয়ে হাজার হাজার খামারি

Published: 21 May 2026

পোস্ট ডেস্ক :


ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো মুসলিম সমাজের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে গরু কোরবানির বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে কট্টর হিন্দু সমর্থক গোষ্ঠীর বড় একটি অংশ চাচ্ছে, যেকোনো উপায়ে যেন গরু কোরবানি দেয়া হয়। বুধবার (২০ মে) দ্য কুইন্টের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

দ্য কুইন্ট জানিয়েছে, গরুর ভিডিওতে হঠাৎ করেই সয়লাব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তেমনি ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম যুবকরা হিন্দু গরু বিক্রেতাদের পথরোধ করছেন এবং তাদের বাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তারা বলছেন, আপনারা কেন গরু বিক্রি করতে চাচ্ছেন। তাকে বাড়ি নিয়ে যান এবং সেবা করুন। আপনারা গরু বিক্রি করলে টাকা আয় করবেন আর আমরা জেলে যাবো।

আরেক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম যুবকরা গবাদিপশু বহনকারী ট্রাক থামিয়ে চালকদের জেরা করছেন। তাদের প্রশ্ন করছেন, আপনারা এভাবে গরু বেঁধে অমানবিকভাবে নিয়ে যাচ্ছেন কেন। এর পরিবর্তে আপনারা তাকে শ্রদ্ধার সাথে হেঁটে নিয়ে যান।

একই সময়ে বেশ কয়েকজন মুসলিম ইনফ্লুয়েন্সার এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু না কেনার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানাচ্ছেন। এ ছাড়া কিছু ভিডিওতে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
এসব ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু হিন্দু গরু খামারি হাটে কোনো বেচাকেনা করতে না পেরে শুকনো মুখে উদ্বেগ ও হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
পশ্চিমবঙ্গে এমন ঘটনার জন্য অনেকেই এবারের রাজ্যটির নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে প্রকাশ্যে দোষারোপ করছেন।
বর্তমানে সেখানে এই সংকট অনলাইনে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ‘গরু সংকট’ নিয়ে একটি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন একদিনের মধ্যেই ইউটিউবে ১০ লাখ এবং ফেসবুকে ৩০ লাখ ভিউ ছাড়িয়ে গেছে।
এমন সংকট হওয়ার নেপথ্যে
গত ১৩ মে নবগঠিত বিজেপি সরকার ১৯৫০ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’ আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের ঘোষণা দেয়। নির্দেশনায় বলা হয়, সেই গবাদিপশু জবাই করা যাবে সরকারি সনদে যে পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি বা এটি স্থায়ীভাবে কাজের জন্য অনুপযুক্ত।
শুধুমাত্র সরকার-অনুমোদিত কসাইখানাতেই পশু জবাই করা যাবে। প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ। এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১,০০০ রুপি জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এমন বিজ্ঞপ্তি জারির পর রাজ্যটির হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ও পুলিশ রাস্তায় গরু পরিবহনকারীদের থামিয়ে হয়রানি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ উঠে।
এরপর মুসলিম সংগঠনগুলো ঈদে গরু কেনা বয়কটের প্রচারণা শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই পশ্চিম বাংলার হিন্দু গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংগঠনগুলো এখন গরুর পরিবর্তে ছাগল বা মহিষ কোরবানি দেয়ার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানাচ্ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে হাজার হাজার গরু খামারি।