মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন এক বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

Published: 28 May 2026

পোস্ট ডেস্ক :


দক্ষিণ ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) এ দাবি করেছে। তবে কুয়েত জানিয়েছে, তারা শত্রুতাপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি প্রতিহত করেছে। তবে লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা নিশ্চিত করেনি দেশটি। উল্লেখ্য, এ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটি আছে। ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে এবং দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তিন দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে হামলা চালালো। ওয়াশিংটন বলছে, এসব হামলা আত্মরক্ষার্থে পরিচালিত। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে আগের মার্কিন হামলার উৎসস্থল লক্ষ্য করে পরিচালিত আঘাত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, কুয়েতে ইরানের হামলা ছিল জঘন্য যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। তাদের দাবি, এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে পাঁচটি আত্মঘাতী ড্রোন পাঠিয়েছিল, যা স্পষ্ট হুমকি তৈরি করে। সেন্টকম জানায়, সব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং বন্দর আব্বাসের একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা ষষ্ঠ ড্রোনটিও প্রতিহত করা হয়েছে।

মার্কিন বাহিনী তাদের পদক্ষেপকে পরিমিত, সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেয়া বলে বর্ণনা করেছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। আইআরআইবির উদ্ধৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের ভূখ- লক্ষ্য করে চালানো ‘ইরানের অপরাধমূলক হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করে যে, সোমবার দক্ষিণ ইরানে তারা আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতার চেষ্টা করা নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

সেন্টকম জানায়, ওই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের সুরক্ষা দেয়া।’ যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে অর্থ আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে এই ইরানি সংস্থা। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বলেছে, যে কোনো জাহাজ যদি ওই কর্তৃপক্ষকে অর্থ দেয়, তবে তারা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ওমানকেও সতর্ক করেছেন। হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত ঐতিহ্যগত মার্কিন মিত্র ওমানকে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এই নৌপথে টোল ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়ার কোনো প্রচেষ্টা সহ্য করবে না।

বৃহস্পতিবার এক্সে দেয়া পোস্টে বেসেন্ট লিখেছেন, বিশেষ করে ওমানের জানা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত যে কাউকে কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তু করবে। এর আগের দিন ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলে সেটির ব্যবস্থাপনায় ওমানও ইরানের সঙ্গে যুক্ত হবে। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাংবাদিকদের ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওমানকে সবার মতো আচরণ করতে হবে, না হলে আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।

বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই বলেন, তেহরান নৌ চলাচল সেবার জন্য ফি আদায় করছে এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে। স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যকে জিম্মি করার ইরানি সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ চেষ্টা এবং ইরান অর্থসংকটে মরিয়া- এর প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার আইআরজিসি আরও দাবি করে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি যুদ্ধবিমান ও আরেকটি ড্রোনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। তবে ঘটনাটি কখন ঘটেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন শেষ শক্তি দিয়ে আলোচনা করছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন তার যুদ্ধনীতিকে প্রভাবিত করবে না। তিনি বলেন, হতে পারে আমাদের আবার ফিরে গিয়ে কাজ শেষ করতে হবে, আবার নাও হতে পারে।

ওই বৈঠকেই ট্রাম্প উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।