রুপার্ট লোর রিপোর্ট
রুপার্ট লোর রিপোর্ট
যুক্তরাজ্যে ‘পাকিস্তানি ধর্ষণ চক্র’, নির্যাতনের শিকার আড়াই লাখ শিশু-কিশোরী
পোস্ট ডেস্ক :

যুক্তরাজ্যে সংগঠিত যৌন শোষণ চক্র বা ‘গ্রুমিং গ্যাং’ নিয়ে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ অপরাধের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকারের বিরুদ্ধে শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও উঠেছে। রুপার্ট লোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত এক দশকে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ নামের এসব চক্রের হাতে আড়াই লাখের বেশি ব্রিটিশ শিশু ও কিশোরী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বড় অংশ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত তরুণ বা পুরুষ। এ বিষয়ে আরটি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১৮ পৃষ্ঠার এই ‘রেপ গ্যাং রিপোর্ট’ বৃটেনের ১৪৯টি জেলা ও পৌর এলাকায় কয়েক দশক ধরে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানত শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ কিশোরীরা এসব অপরাধের শিকার হয়েছে, তবে অল্প সংখ্যায় শিখ সম্প্রদায়ের কিশোরীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইয়াহু নিউজের একটি স্বাধীন ফ্যাক্টচেকে বলা হয়েছে, আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সঠিকভাবে যাচাইযোগ্য নয় এবং এটি বিভিন্ন মাধ্যমে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২২ সালের একটি স্বাধীন তদন্তেও বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে এ ধরনের নেটওয়ার্কের প্রকৃত পরিসর নির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয় যে অনেক শিশুকে ভয়ভীতি, মাদক ও মানসিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো এবং দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন চালানো হতো। কিছু ক্ষেত্রে হত্যার হুমকি, ব্ল্যাকমেইল ও বিভিন্ন শহরের মধ্যে ভুক্তভোগীদের স্থানান্তরের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
রুপার্ট লো প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। এতে শত শত ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আরটি ইন্টারন্যাশনালের খবরে আরও বলা হয়, বৃটেনে আগেও এ ধরনের অপরাধ নিয়ে ‘জে ইনকোয়ারি’ এবং ‘টেলফোর্ড ইনকোয়ারি’সহ একাধিক তদন্ত হয়েছে। তবে সেগুলো নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকায় পুরো দেশজুড়ে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরতে পারেনি বলে সমালোচকদের অভিযোগ।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব অপরাধের পেছনে সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পাওয়ার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা না দিয়ে তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা ছাড়াই ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যে ভয়াবহ নির্যাতন, বারবার ধর্ষণ, হুমকি এবং জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের বিবরণ রয়েছে। তবে এসব দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ ও বিতর্ক রয়েছে। এদিকে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।




