আগামীকাল পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন কিয়ের স্টারমার

Published: 21 June 2026

পোস্ট ডেস্ক :


বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। ক্ষমতা ছাড়ার একটি সময়সূচিও প্রকাশ করতে পারেন। এমনটা জানিয়ে খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদপত্র দ্য অবজারভার। তবে সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, স্টারমার এখনও সরকার পরিচালনার দায়িত্বেই মনোযোগী। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা অসন্তোষ শুক্রবার আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এ সময় তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেন।

এই জয় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ করে দিয়েছে। দ্য অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার তার সরকারি গ্রাম এলাকার বাসভবন চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা আশা করছেন, সোমবারের মধ্যেই তিনি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বক্তব্য দেবেন। তবে সরকারি একটি সূত্র এসব জল্পনাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছে, স্টারমার তার দায়িত্ব পালনে মনোযোগী এবং এ বিষয়ে তিনি আগেও একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

শুক্রবার স্টারমার নিজেও বলেন, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবিলা করবেন এবং দলীয় কোন্দলের মাধ্যমে লেবার পার্টিকে আত্মবিধ্বংসী পথে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বিপুল বিজয় এনে দিয়েছিলেন কিয়ের স্টারমার। তবে পরবর্তীতে একাধিক বিতর্ক, কেলেঙ্কারি এবং নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যায়। অনেক ভোটারের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। যদি তিনি পদত্যাগ করেন বা তাকে সরিয়ে দেয়া হয়, তাহলে গত এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বৃটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন। প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের সর্বোচ্চ হারগুলোর একটি।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, স্টারমারের দলের ১০০ জনেরও বেশি এমপি- যা হাউস অব কমন্সে লেবার এমপিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, তারা প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ অথবা পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। দ্য অবজারভার জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, দাতা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর স্টারমার নাকি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে তার অবস্থান আর টেকসই নয়। তবে সংবাদপত্রটি তাদের সূত্রের নাম প্রকাশ করেনি।

ওদিকে ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অনেকেই স্টারমারের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। সেটা আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হোক বা আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব নির্বাচন- দুই ক্ষেত্রেই তিনি শক্তিশালী অবস্থানে। উত্তর ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে তিনি লেবার পার্টির ভেতরে একটি শক্তিশালী সমর্থনভিত্তি গড়ে তুলেছেন। শুক্রবার তিনি নাইজেল ফারাজের ডানপন্থী জনতাবাদী দল রিফর্ম ইউকের চ্যালেঞ্জ সহজেই পরাজিত করে শূন্য হওয়া সংসদীয় আসনে জয় পান। যদিও বার্নহ্যাম সঙ্গে সঙ্গে স্টারমারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ জানাননি, তবে বিজয় বক্তৃতায় তিনি দেশের জন্য নতুন পথের প্রতিশ্রুতি দেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা স্টারমারকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও জানিয়েছেন যে তিনি প্রয়োজন হলে স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত। এদিকে দ্য টাইমস শনিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসকে পদচ্যুত করবেন। তার উপদেষ্টাদের মতে, রিভস লেবার সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন দিকনির্দেশনার প্রতীক নন। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই তথ্য যাচাই করতে পারেনি। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ এই সংকট এখন বৃটিশ রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কিয়ের স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।