বার্নহ্যামকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে তোলপাড়

Published: 21 June 2026

পোস্ট ডেস্ক :

ব্রিটিশ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন যে, তিনি হবেন বৃটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তাদের বিশ্বাস একটি ‘করোনেশন-ধাঁচের’ ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তিনি বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তার সমর্থনে পার্লামেন্ট সদস্যদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে মেকারফিল্ড আসনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর তার প্রতি সমর্থন দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই আসনে তিনি সহজেই রিফর্ম ইউকে-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন। বার্নহ্যাম ও তার দল কয়েক দিন ধরে এমপি ও মন্ত্রীদের সমর্থন আদায়ের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এর লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ তৈরি করা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের পর বার্নহ্যাম শিবির প্রায় ২০০ এমপির সমর্থন আশা করছিল- যা লেবার পার্টির পার্লামেন্টারি দলের প্রায় অর্ধেক। তবে এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সংখ্যা এখন পুরোনো ধারণা। অন্য একজন বলেন, সমর্থন ৩০০-এর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, যা সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাধ্য করতে পার্লামেন্টারি দলের অন্তত ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। মোট ৪০৩ জন এমপি থাকায় কমপক্ষে ৮১ জনের সমর্থন লাগবে। পাশাপাশি স্থানীয় শাখা সংগঠনের ৫ শতাংশ এবং কমপক্ষে তিনটি সহযোগী সংগঠন- যার মধ্যে দুইটি অবশ্যই ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থন থাকতে হবে।

যদি একাধিক প্রার্থী এই শর্ত পূরণ করেন, তবে দলীয় সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত নেতা নির্বাচন করবেন। বর্তমান নেতা কিয়ের স্টারমার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যালটে থাকবেন এবং তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি ইতিমধ্যে বলেছেন, সম্ভাব্য যেকোনো নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি লড়াই করবেন, যদিও তা কয়েক মাস ধরে চলতে পারে। তবে পূর্বে তার ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীদের একটি অংশ সতর্ক করেছে যে, তিনি যদি নেতৃত্ব ছাড়ার সময়সূচি না দেন, তবে ধারাবাহিক পদত্যাগের মাধ্যমে তাকে অপমানজনকভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে।

বার্নহ্যাম বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান। তার দল মনে করছে, রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজের দলকে আগামী সাধারণ নির্বাচনে ঠেকাতে তিনিই লেবারের সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প। যদিও কিয়ের স্টারমার ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় এনে দেন, সাম্প্রতিক নীতিগত ইউ-টার্নের কারণে তিনি ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্নহ্যামের এক সহযোগী বলেন, আমরা তাদের দেওয়া প্রতিটি কঠিন শর্ত পূরণ করেছি। অ্যান্ডি যেভাবে জয় পেয়েছেন, আমরা সব সীমা ভেঙে দিয়েছি। এটা স্পষ্ট বার্তা। তিনি আরও বলেন, এটা ব্যক্তিগত বিষয় নয়, তবে আমাদের সত্য কথা বলতে হবে। লেবার সরকার টিকিয়ে রাখতে হলে অন্য পথ খুঁজতে হবে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্টারমার তা করতে পারছেন না।

অন্যদিকে, স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সাবেক মন্ত্রী জেস ফিলিপস বলেছেন, বার্নহ্যামকে অবশ্যই অন্তত কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, অনেকেই অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ভালোভাবে চেনেন না, বিশেষ করে যারা গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বাইরে। তাই তার ধারণাগুলোকে যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একই শিবিরের আরেকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলেছেন, এমপিদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো কিয়ের স্টারমারকে বোঝানো যে তিনি আর নেতৃত্বে থাকতে পারেন না। তার মতে, দুটি পথ আছে- একটি হলো শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা, যেখানে নীতিগত বিতর্কের মাধ্যমে শক্তিশালী নেতা বেরিয়ে আসবে; আরেকটি হলো ক্ষোভ, বিভাজন ও দোষারোপে ভরা কঠিন প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, স্টারমার পদত্যাগ করলে একটি বেশি নিয়ন্ত্রিত ও গঠনমূলক নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্ভব, যেখানে নীতিগত বিতর্কই মূল হবে। তিনি আরও সতর্ক করেন, সঠিকভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তন না হলে সরকারে বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
লেবার পার্টির ভেতরের এই উত্তেজনা এখন বৃটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।