স্টারমারের ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের সামরিক পরিকল্পনায় কী রয়েছে
পোস্ট ডেস্ক :

ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তবে পদ থেকে পুরোপুরি সরার আগেই তার উত্তরসূরিকে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত ঋণ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই লক্ষ্যে তিনি ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা (ডিআইপি) ঘোষণা করেছেন। যার অর্থের বড় অংশ আসবে জ্বালানি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাজেট পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ঘোষিত এই পরিকল্পনা প্রায় ১১ মাস ধরে সরকারের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রকাশ করা হয়। এই বিরোধের জেরে স্টারমারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার রাজনৈতিক পতনেরও একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
স্টারমার জানান, আগামী চার বছরে প্রতিরক্ষা খাতে পূর্বনির্ধারিত ২৮৩ বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত আরও ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে।
কোথায় ব্যয় হবে এই অর্থ?
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী—রয়্যাল এয়ার ফোর্সের জন্য নতুন স্টেলথ যুদ্ধবিমান কিনতে ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় হবে।
এ ছাড়া ৬৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় হবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে, যার মধ্যে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ১২টি নতুন বিমানও রয়েছে।
৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে ড্রোন প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে।
অর্থ স্থানান্তর
স্টারমার স্বীকার করেন, অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মূলধনী বাজেট থেকে নেওয়া হবে। ফলে কিছু সড়ক, জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্প বিলম্বিত, সীমিত বা বাতিল হতে পারে।
দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া—উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়ক ও জ্বালানি খাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে অপরিহার্য নয়—এমন প্রকল্প আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোবে না।
সামরিক আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে স্টারমার সরাসরি অস্বীকার করেননি।
তবে তিনি বলেন, সামরিক আবাসনে সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে, তবে সেটিকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজনের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে হয়েছে।
ঋণ নয়, আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর জোর
প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অর্থ জোগাতে ‘ডিফেন্স বন্ড’ চালুর প্রস্তাবও নাকচ করেন স্টারমার। তার ভাষায়, ডিফেন্স বন্ড মূলত ঋণ নেওয়ারই আরেকটি নাম।
তিনি বলেন, ঋণ বাড়ালে সুদের হারও বাড়বে। বর্তমানে প্রতি ১০ পাউন্ড সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ১ পাউন্ড শুধু সুদ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে।
সরকারি অর্থব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে কঠোর পরিশ্রম করেছি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, মূল্যস্ফীতি ও মর্টগেজের (বন্ধক) সুদের হার কমাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আমরা ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাই না।
প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবি
তবে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোষিত অতিরিক্ত অর্থও যথেষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত বছর ব্যয় পর্যালোচনায় অতিরিক্ত ২৮ বিলিয়ন পাউন্ড চেয়েছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করেছিল।
বর্তমান পরিকল্পনায় সেই দাবির অর্ধেকের কিছু বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকার অবশ্য পরবর্তী পার্লামেন্টের কোনো এক সময়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
স্টারমার বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দায়িত্ব এবং তিনি আশা করেন, তার উত্তরসূরিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবেন।
এদিকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে তিনি আগামী ১৭ জুলাই লেবার পার্টির নেতা এবং ২০ জুলাই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।




