নাচে গানে কবিতায় ২১ স্মরণ করলো বরাকবঙ্গ

Published: 22 February 2021, 4:32 PM

অরুপ রায়, করিমগঞ্জ, ভারত : চেতনার একুশে এপার বাংলা ওপার বাংলার আকাশে বাতাসে মেতে উঠে বাংলার শিল্পীরা । দুই বাংলার মধ্যে কুশিয়ারা থাকলেও নানা শিল্পী কন্টে সেই একই গান “আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি” ।

সীমান্ত শহর করিমগঞ্জের শম্ভু সাগর উদ্যানে জাতীয় শহিদ স্মারক প্রাঙ্গনে ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা,নাচ,গান,আবৃতির মাধ্যমে শহিদদের শ্রদ্ধা জানায় বিশিষ্ট নাগরিক,শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী, সহ নানা সংগঠনের শিল্পীরা ।

অনুষ্ঠনের শুরুতেই “ফেব্রুয়ারি একুশ তারিখ দুপুর বেলার অশ্রু “। “জান দেবো জবান দেবোনা এ করছি পণ” । “বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তোমরা যারা দিয়েছো প্রাণ “। পর পর তিনটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে ড,পি আর সি শিশু নিকেতনের শিল্পী দীপশিখা

হয় ড,পি আর সি শিশু নিকেতনের ছাত্রীরা  দীপশিখা সেন,ঋষিকা রায় ,পূজা দত্ত,দীপাঞ্জয়ী দাস ,বৈশাখী দে, ঋতুরাজ চক্রবর্তী, তনুশ্রী দাস ,রুদ্রনীল চক্রবর্তী অর্পিতা দাস ।

মহর্ষি বিদ্যামন্দিরের শিল্পীরা ” মোদের গরব মদের আশা” সমবেত ভাবে সঙ্গীতটি  পরিবেশন করে ইস্পিতা দাস ,বিভাবসু ভট্টাচার্য,দ্বৈপায়ন রায়, নীলৎপল আচার্য্য,দিয়া দত্ত,সোহিনী বণিক । একক কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করে সৌর্যেন্দু দাস।

শৈলজা বিশ্বাস মনিমুক্তা বিদ্যামন্দিরের লাভলী দেব, অনন্যা দেব,জ্যোস্না মরিয়ম,দেবযানী দাস ,রূপশ্রী দেব,দেবাঞ্জলী চক্রবর্তী ,লিজা পাল ।সমবেত কণ্ঠে তারা গিয়েছিল “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো “।

“আমার ছেলে বাংলা যানে না ” এই আবৃত্তি কে সামনে রেখে নৃত্য পরিবেশন করে নুপুর নৃত্যালয়ের মৌ বিশ্বাস,শ্রেয়সী দেব,দেবশ্রী দেব,স্নেহা দেব,তনিসা দত্ত, মেঘলা দাস ,। নৃত্য পরিচালনা করেন পায়েল চক্রবর্তী ।

“দিগন্ত রে অমর একুশ এবং বর্ণমালার সাথে ” পর পর দুটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে শ্রুতিধারা সঙ্গীত মহা বিদ্যালয়ের শিল্পী ঋতুতপা চক্রবর্তী , অলকা চক্রবর্তী, রোহিত দাস,হৃর্ষা আচার্য ।

নৃত্য নিকেতন সাংস্কৃতিক সংস্থা পক্ষে একক কণ্ঠে অমি রবিদাস “আগুন জ্বালো” সঙ্গীত পরিবেশন করে। “করার ঐ লৌহকপাট”  সমবেতভাবে রাশি পাল ভৌমিক,নিশিকা দত্ত ,কল্যাণী দাস,সোহানী সাহা,। সব শেষে তারা “বান এসেছে মরা গাঙে” এতে অংশনে  রিতভিক রায়,রুদ্রজ্যোতি বিশ্বাস,মানব দাস, অনুষ্কা নাগ,গরিমা সাহা সর্দার, শ্রীজা দত্ত ।

নৃত্যম সাংস্কৃতিক কলা কেন্দ্রের নিবেদিত সমবেত সঙ্গীত “বাংলা আমার ভালোবাসা ” অংশনে উর্মি পুরকায়স্থ,শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী, তনুশ্রী ভট্টাচার্য,মৌটুসী দাস,এবং নভোনীল দাস,।

“আমরা সবাই গাইরে ও ভাই “ও “মোরা ঝঞ্জার মত উদার” পর পর দুটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে “সুরসপ্তক সঙ্গীত বিদ্যালয়ে প্রতিমা ভট্টাচার্য,প্রিয়ঙ্কা দত্ত, জয়িতা চন্দ, সৃজাতা পাল ,অঙ্কিতা রানী রায়,জয়িতা কুরি,।

একক ও দ্বৈতকণ্ঠে আবৃত্তি পাঠ করে “আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ,বেদদত্তা চৌধুরী, অঙ্কিতা সিং, শ্রেয়সী চক্রবর্তী ।

পর পর দুটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে”সঙ্গীতম সাংস্কৃতিক সংস্থার পক্ষে পায়েল বণিক,জয়শ্রী তন্তরায়,অন্বেষা নাথ,স্নেহা শর্মা,তানিয়া দাস ,। “আমি বাংলায় গান গাই ও মুক্তির মন্দিরে সোপান তলে” দুটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে লিজা পাল ঝর্ণা সূত্রধর,সঞ্জিতা বিশ্বাস,তাপস দেব,। সুলেখা দত্ত চৌধুরীর নির্দেশনায় “নৃত্যাঙ্গ‌‌ন এর পক্ষে একক নৃত্য পরিবেশন করে অমিতা পাল,। সৃষ্টি সংগঠনের পক্ষে “বাংলা আমার জীবনানন্দ “পরিবেশন করে ময়ূরাক্ষী বিশ্বাস ।

“এ দেশ আমার এ দেশ তোমার এ মাটি তোমার আমার, এবং  “তোমার সবুজ সামিয়ানায় লেখা বাংলা ভাষার নাম ”  পর পর দুটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে “চারণিক” এর শিল্পীরা শ্রীপর্ণা চৌধুর্রী, মৈত্রেয়ি দে,  মল্লিকা দাস চৌধুর্রী, রাজ্যশ্রী দাস, দিপিকা ঘোষ, কণিকা দাসগুপ্ত, কাকলী দাস, নবোজিত প্রধানী, অরূপ রতন দাস,মনোজিৎ চৌধুর্রী।

গীতিবিতান সঙ্গীত মহাবিদ্যালযের পক্ষে “ওআমার দেশের মাঠি “সঙ্গীত পরিবেশন করেন সেবিকা নাথ,সুবর্ণা নাথ প্রমুখ ।

বিবেকানন্দ কেন্দ্র কন্যাকুমারী করিমগঞ্জ কার্য্যস্থানের পক্ষে ভাষা শহিদ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন কেন্দ্রের বরাক বিভাগের সহ সভানেত্রী শিক্ষাবিদ সমাজকর্মী লোপামুদ্রা চৌধুরী। দলগত নৃত্যানুষ্ঠান-“বাংলা আমার ভালোবাসা”। নৃত্যে-মৌসুমী চক্রবর্তী, পূজা পোদ্দার,মধু বেরা, স্বর্ণালী বেরা ও খুশি দাস।

নৃত্যানুষ্ঠানপরিচালনায়-সোনালী গোস্বামী।

ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা ”

সমবেত কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করে প্রতিমা ভট্টাচার্য,অপরাজিতা আচার্য্য,দেবরাজ শর্মাচার্য, দীপশিখা দাস,সেবিকা নাথ,সুবর্ণা নাথ । তাছাড়া সঙ্গীতের সুরে গলা মেলান লোপামুদ্রা চৌধুরী, সুলেখা দত্ত চৌধুরী, ঝুমা দাস প্রমুখ ।

এদিনের অনুষ্টানে অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে যোগমায়া সঙ্গীত বিদ্যালয় ,বরাক নন্দিনী পাঠচক্র সহ আরোও কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশনে । অনুষ্টানে শিল্পীদের তবলায় সহযোগিতা করেন দেবাশিষ দাস ও বিরাজ চক্রবর্তী ।

বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের করিমগঞ্জ শহর সমিতির আয়োজিত গোটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিচালনায় ছিলেন সমিতির সম্পাদক নিলজ কান্তি দাস ও সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা ঝুমা দাস ।

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share