বড়লেখায় এটিইও’র অনিয়ম-দুর্নীতি

বড়লেখায় এটিইও’র অনিয়ম-দুর্নীতি
তদন্তেই সাড়ে বছর পার, প্রতিকার পাওয়া নিয়ে ভুক্তভোগীদের সংশয়

Published: 30 June 2021

বড়লেখা প্রতিনিধি :

বড়লেখা থেকে ৩ বছর আগে বদলি হাওয়া সেই ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অরবিন্দ কর্মকারের অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের তদন্ত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালকের নির্দেশে অভিযোগটি তদন্ত করেন মৌলভীবাজারের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোশারফ হোসেন। তদন্ত করতেই সাড়ে ৪ বছর পার, প্রতিবেদন তৈরী, জমা আর ব্যবস্থা নিতে কত বছর অপেক্ষা করতে হবে এমন প্রশ্ন তুলে ভুক্তভোগীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক বরাবরে উপজেলার ৮ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক কর্তৃক প্রেরিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার অরবিন্দ কর্মকতার বিভাগীয় নিয়মনীতি, আদেশ-নির্দেশের তোয়াক্কা না করে কিছু শিক্ষক দিয়ে সিন্ডিকেট তৈরী করে ঘুস-দুর্নীতি চালিয়ে যান। সরকারী বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা উপকরণ মেলায় প্রতি শিক্ষকের নিকট থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। শিক্ষা অফিসের ফার্ণিচার ক্রয়ের নামে স্কুল প্রতি ২০০ টাকা, জাতীয় বেতন স্কেল পে-ফিক্সেশনের নামে সহকারী শিক্ষক প্রতি ২০০ টাকা, প্রধান শিক্ষক প্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করেন। অবসরকালিন ছুটিতে গমণের প্রায় ২ মাস বাকি থাকলেও বড়লেখা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গীতা রাণী দেবীকে বিধিবর্হিভুতভাবে কাঁঠালতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। টাইমস্কেল, এরিয়ার বিল, মাতৃত্বকালিন ছুটি, চিকিৎসা ছুটি, উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের অনুমতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা চাকুরী বহিতে এন্ট্রি, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের সরকারী বরাদ্দের অর্থ ছাড়করণে অলিখিত ঘুসের নিয়ম চালু করেন।

 

অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক অঞ্জনা রানী দে, আব্দুল খালিক, আব্দুল করিম প্রমূখ জানান, অভিযোগ দাখিলের সাড়ে ৪ বছর পর তদন্ত অনুষ্ঠিত হলো। এ সময়ে অনেকই অবসরে গিয়েছেন। এরপরও আমরা প্রায় সকলেই তদন্ত কর্মকর্তার সম্মুখে হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। প্রতিকার পাওয়া নিয়ে যতেষ্ট সংশয় রয়েছে।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিজ মিয়া তার কার্যালয়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোশারফ হোসেন অভিযোগকারীদের ও অভিযুক্তের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন।