অলিম্পিক ফল নিয়ে ভাবনা?

Published: 3 August 2021

।। নীল সরকার ।।

অবশেষে অলিম্পিক শুরু হল। এক বছরের বিলম্বে বিশের আয়োজন একুশে।

অলিম্পিক আমাদের মতো খেলাধূলাতে পিছিয়ে থাকা জাতিগুলোর কাছে এক বিশাল আন্তর্জাতিক বিষয়।
রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন, দুনিয়াতে যখন এসেছিস, দাগ রেখে যা। তো অলিম্পিকে দাগ রাখলে তা জাতির খেলাপাগল নাগরিকদের কাছে চিরন্তন এক স্মৃতি।

আমরা ছোট বেলায় বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য চরম আগ্রহে থাকতাম। অথচ বছরভোর খেলাধূলো সীমাবদ্ধ থাকত ফুটবল ও ক্রিকেটে। ভারত ১৯৮৩-র ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতার পর ফুটবল ফিকে হতে থাকে। পরে টিভির দৌলতে ইউরোপের লিগের খেলা দেখে মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে। একমুখী খেলার চিন্তা ধারার পাশে অভিভাবকদের ভূমিকা কি ছিল? মাঠ থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে বকা ছেড়ে দিন উত্তম মধ্যম জুটে যেত। খেলাধূলাতেও পেশা সম্ভব কেউ ভাবেনি। ফলে পড়াশুনার পাশে খেলাকে সকল অভিভাবক সময় কাটানোর বিষয় ভাবতেন।

তখন প্রত্যেক জেলাতে স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন ছিল। ছিল খেলার মাঠ। সরকার থেকে ক্লাব গুলোকে জমি দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। আজ খুঁজতে হবে। আবাসন হলেও আশ্চর্য কিছু নেই। সেই সাত-আট দশকের খেলা পাগল ছোটরা আজ অভিভাবক। মস্কো অলিম্পিকে বি ভাস্করনের ভারত হকিতে সোনা পেতে বহুজনের হাতে হকির স্টিক উঠেছিল।

কিন্ত খেলাধূলার পরিকাঠামো? সে মশাই সাবানের ভাষায় খুঁজতে হবে। রাষ্ট্র মনে করলে রাতারাতি ডিজিটাল হাইওয়ে গড়তে পারে। সেখানে প্রতি অলিম্পিকের পর বিস্তার হৈ চৈ ফল নিয়ে। তারপর সংবাদ মাধ্যম চুপ। স্পোর্টসের সেই গুরুত্ব নেই যে সরকার হিলে যাবে।

ফলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যারা বিনিয়োগ করে বিদেশে উন্নত পরিকাঠামো ও কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন তারাই সফল হয়ে থাকেন। এটা রীতি নিয়ম হয়েছে। প্রাক্তন কম্যুনিস্ট পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও এমন খেলার প্রশিক্ষণ দিয়ে ভাল উপার্জন করে। অথচ আমরা দেখি গাছের ডালে জিমন্যাস্ট দোল খাচ্ছেন। কেন?

কটা উন্নত স্পোর্টস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে? সমীক্ষা করলে দেখা যাবে এখন প্রচুর খেলোয়াড় পেশা হিসেবে খেলাধূলাকে পছন্দ করে। খরচ কে দেবে? ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়ার সুযোগ কম। আরও কম সময়। পড়ার সময়েই দিন ফুরিয়ে যায়। খেলার মাঠ নেই। তালিকাটা বেশ দীর্ঘ।

কাজেই অলিম্পিকের ফল দেখে হাহুতাস না করে পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো নিয়ে ভাবতে হবে।