বিশ্বকাপে যৌনতা: কানসাস সিটিতে নিরাপদ কিট বিতরণ
পোস্ট ডেস্ক :

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই উন্মাদনা। বিশ্বের তাবৎ ফুটবলপ্রেমিদের মধ্যে সক্ষম ব্যক্তিরা এই আসরে ভিড় জমান। ফুটবল ‘যুদ্ধ’ চলার পুরোটা সময় তারা খেলা উপভোগ করেন। পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখেন। সঙ্গে আরও একটি বিষয়কে ফুটবল ‘যুদ্ধের’ মতোই জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নেন। তা হলো শারীরিক চাহিদা। তাদের এই জৈবিক ক্ষুধা নিবারণের জন্য বিভিন্ন হোটেল, ভাড়া বাসায় শরীরের বেসাত পেতে বসেন অনেক যুবতী। এই এক আসর চলার সময় তারা হাতিয়ে নেন কোটি কোটি ডলার। ভক্তদের যৌন চাহিদার এই বাজারে যৌন শারীরিক সম্পর্ক হয় নিরাপদ সে জন্য তাদের জন্য ৫০০০ নিরাপদ যৌনতা বিষয়ক কিট প্রস্তুত করেছে প্ল্যানড প্যারেন্টহুড গ্রেট প্লেইনস নামের একটি সংগঠন। কানসাস সিটি স্টারে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হবে। বড় পরিসরের এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বিপুল সংখ্যক বিদেশি দর্শক আসার সম্ভাবনা থাকায় একে একটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য উদ্বেগের অংশ হিসেবে নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার আওয়ার স্পট কেসি’র স্বেচ্ছাসেবীরা এসব কিট প্রস্তুতে কাজ করছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত এলজিবিটিকিউ+ কমিউনিটির মানুষদের সহায়তা করে থাকে। তারা প্রতিটি ছোট বাক্সে রাখছে ল্যাটেক্স ও নন-ল্যাটেক্স কনডম, লুব্রিকেন্ট প্যাকেট এবং ডেন্টাল ড্যাম, যা যৌনবাহিত রোগ (এসটিআই) সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
প্রথম ধাপের কিটগুলো বিশ্বকাপ ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে কেসি প্রাইডফেস্টে বিতরণ করা হবে। পরে টুর্নামেন্ট চলাকালে এগুলো দর্শনার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে দেয়া হবে। কানসাস সিটি ও আশপাশের এলাকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে যৌনবাহিত রোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হতে পারে। বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে সাধারণত মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ, ভ্রমণ এবং নতুন সম্পর্কের প্রবণতা বাড়ে, যা এসটিআই সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।
প্ল্যানড প্যারেন্টহুড-এর কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব কিট মানুষের জন্য সহজলভ্য ও কোনো ধরনের বিচার ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবা তথ্য ও উপকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. ইমান আলসাদেন জানান, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কীভাবে বাড়তি স্বাস্থ্যসেবা চাহিদা পূরণ করা যায়, তা নিয়ে তারা আগেই পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে সরাসরি চিকিৎসা সেবা এবং টেলিহেলথ দুটোই অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলোও জানিয়েছে, জ্যাকসন কাউন্টিতে ঐতিহাসিকভাবে এসটিআই-এর হার রাজ্যের গড়ের তুলনায় বেশি ছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা কমেছে। তবে কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রতিরোধ এবং পরীক্ষা করার সুযোগ সহজলভ্য করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোর সঙ্গে সাময়িকভাবে এসটিআই বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই তারা নিরাপদ যৌনাচার, কনডম ব্যবহার এবং ইভেন্ট-পরবর্তী পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, অনেক ভ্রমণকারী বিদেশে গিয়ে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা এসটিআই ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংস্থাটি কনডম ব্যবহার এবং উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেয়। কারণ অনেক সংক্রমণই উপসর্গহীন থাকতে পারে। প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের উদ্যোগ ছাড়াও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো ক্লিনিক ও বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে কনডম বিতরণ করছে। একই ধরনের উদ্যোগ অন্যান্য আয়োজক শহরেও দেখা গেছে, যেমন টরন্টোতে ফুটবল-থিমযুক্ত কনডম বিতরণ করা হচ্ছে নিরাপদ আচরণ উৎসাহিত করার জন্য। সব মিলিয়ে, কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপ চলাকালে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় নেয়া বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য কৌশলের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।




