জেলেনস্কির মৃত্যু হলেও এগিয়ে চলবে ইউক্রেনের সরকার
পোস্ট ডেস্ক :

যদি ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে ভলোদিমির জেলেনস্কির মৃত্যু হয় তাহলে থেমে থাকবে না ইউক্রেনের সরকার। ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি রাখা হয়েছে। একথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে হামলা, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে হত্যার ছক কষা হলেও জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থেকেই লড়াই করছেন। ব্লিঙ্কেন সিবিএস নিউজে “ফেস দ্য নেশন” অনুষ্ঠানে মার্গারেট ব্রেনানকে বলেন,”ইউক্রেনীয়দের এমন পরিকল্পনা রয়েছে যেগুলির বিষয়ে আমি বিশদে কিছু বলতে চাই না, তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে চাই ইউক্রেনের সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”
ইউক্রেনের একজন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রধান গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষেবার সদস্যদের সহায়তায় জেলেনস্কির বিরুদ্ধে একটি হত্যার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছে। সপ্তাহের শেষের দিকে কিয়েভের রাষ্ট্রপতির বাসভবনের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো উদ্ধার হয়েছিল। একজন শীর্ষ ইউক্রেনীয় সহযোগী দাবি করেন যে , বিষয়টি জানার পর জেলেনস্কি রাশিয়ানদের তিরস্কার করেছিলেন। ইউক্রেনের প্রেস সেক্রেটারি সের্গেই নাইকিফোরভ ফেসবুকে প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি তুলে ধরেন।
ছবিটি দেখে জেলেনস্কি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানান ,”আমাকে টার্গেট করা হয়েছিল, কিন্তু সেটা মিস হয়েছে।” মার্কিন সাংসদদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সাক্ষাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, “এটাই হয়তো শেষবারের মতো আমাকে জীবিত দেখছেন আপনারা। এর পরে আর দেখা যাবে কি-না জানি না।” সেই প্রসঙ্গেই ব্লিঙ্কেনকে জিজ্ঞাসা করা হয় জেলেনস্কি মারা গেলে ইউক্রেনের সরকারের কি হবে? ব্লিঙ্কেন জেলেনস্কির মৃত্যুর পর ইউক্রেনীয় পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি, তবে তিনি বলেছেন যে পশ্চিমা দেশগুলির রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও “কিছু সময়ের জন্য” এই সংঘাতের জন্য বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে হবে। জেলেনস্কি যেভাবে ইউক্রেনকে চালিত করেছেন এবং রুশ আক্রমণকে প্রতিহত করেছেন, তাঁর ভূমিকায় গোটা বিশ্ব কুর্নিশ জানিয়েছে। ব্লিঙ্কেনও ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট এবং সাধারণ নাগরিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন,” ইউক্রেনের মানুষ অসম সাহসী। এই দেশের সরকারও এই সাহসী নাগরিকদেরই প্রতিমূর্তি।” প্রাথমিক হামলার পর থেকে, রাশিয়া প্রধান শহর খেরসন এবং জাপোরিঝিয়াতে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিজেদের দখলে রেখেছে ।ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী রাশিয়াকে যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছে, অভিযোগ করেছে পুতিনের বাহিনী বেসামরিক জনগণের উপর বোমাবর্ষণ করছে। ব্লিঙ্কেন রবিবার বলেন, ” যত দিন যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার আগ্রাসন দ্বিগুণ করছেন । এটি এখনো অব্যাহত রয়েছে। আমি মনে করি, দুর্ভাগ্যবশত কিছু সময়ের জন্য এসবের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।”




