যুদ্ধক্ষেত্রে বাজলো ওয়েডিং বেল
পোস্ট ডেস্ক :

ইউক্রেনের যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের বাড়িঘর থেকে উৎখাত হয়েছে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে টাটকা বাতাস বয়ে আনল এক ইউক্রেনীয় যুগলের বিয়ের গল্প। সামরিক ইউনিফর্ম পরে ইউক্রেনীয় তরুণ-তরুণীর বিয়ে মন জয় করে নিয়েছে নেটিজেনদের। সেনা ক্যাম্পেই বিয়ে করেন লিসিয়া ও ভ্যালেরি। দু’জনেই ইউক্রেনীয় সেনার ১১২ নম্বর ব্রিগেডের জওয়ান। একদিকে যেমন জীবন বিপন্ন করে দেশের জন্য লড়ছেন, তেমনই সম্পর্ককেও স্বীকৃতি দিলেন তাঁরা। কিয়েভ পোস্টের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে যে ছবি পোস্ট করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে, সেনার পোশাক পরেই বিয়ে সারছেন যুগল। লিসিয়ার হাতে গোলাপ, মুখে হাসি।
ভ্যালেরিও খুব হাসছেন। চারপাশে যে যুদ্ধ-মৃত্যু-ধ্বংস তা ওদের হাসি মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই। বিয়ের সময়ে একজন সৈন্যকে ইউক্রেনের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রে সুর বাজাতেও শোনা যায়। নববধূর মাথায় সৈন্যের হেলমেটের পরিবর্তে স্থান পেয়েছিল সাদা ঘোমটা এবং সে ভ্যালেরির হাত ধরে ছিল। ভিডিওটি প্রথম শেয়ার করেছিলেন জার্মান নিউজ আউটলেট বিল্ডের রিপোর্টার পল রনজাইমার৷ এটি পরে অনেকে শেয়ার করেছেন৷ ১৩ দিন আগে শুরু হওয়া রাশিয়ার আগ্রাসন এখন তীব্র হয়েছে, রাজধানী ইউক্রেনের কিয়েভ এবং অন্যান্য শহর যেমন খারকিভ, মারিউপোল এবং সুমি আতঙ্কের সম্মুখীন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আবারও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিগত অনুরোধে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরে মানবিক করিডোর খোলার ঘোষণা করেছে। চেরনিহিভের জন্য যুদ্ধে কয়েক ডজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। যারা রয়ে গেছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বসবাস করছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ইউক্রেনের ভিন্নিতসিয়া বিমানবন্দর ধ্বংস করে দিয়েছে । জাতিসংঘের মতে, ১.৫ মিলিয়ন মানুষ এখন ইউক্রেন থেকে পালিয়ে গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্রুততম উদ্বাস্তু সংকট তৈরি হতে চলেছে। পোপ ফ্রান্সিস জানিয়েছেন ,”ইউক্রেনে রক্ত ও অশ্রুর নদী বয়ে যাচ্ছে। এটি শুধুমাত্র একটি সামরিক অভিযান নয় বরং একটি যুদ্ধ যা মৃত্যু, ধ্বংস এবং দুর্দশার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ” তিনি রাশিয়ার সামরিক অভিযান শব্দটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।




