যে কারণে পুতিনের দুই মেয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা
পোস্ট ডেস্ক :

ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোয় রাশিয়ার বিরুদ্ধে দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে চলেছে পশ্চিমা বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ দফায় যেসব রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দুই মেয়েও। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে তার দুই মেয়ে ক্যাটেরিনা ও মারিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে যত সম্পদ আছে তা ফ্রিজ করা হচ্ছে। কিন্তু তাদেরকে টার্গেট করে কেনো নিষেধাজ্ঞা দিলো যুক্তরাষ্ট্র?
ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, পুতিনকন্যা ক্যাটেরিনা হলেন টেক এক্সিকিউটিভ। তিনি রাশিয়ার সরকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য কাজ করেন। অপরদিকে আরেক মেয়ে মারিয়া সরকারের অর্থে চলা প্রকল্পগুলির নেতৃত্বে আছেন। এই প্রকল্পগুলি ক্রেমলিনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য পায়। জেনেটিকস নিয়ে গবেষণার জন্য রাশিয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে এবং পুতিন নিজে এর নজরদারি করেন।
এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, পুতিন ও তার সঙ্গীরা নিজেদের পরিবারের মানুষদের নামে সম্পদ রেখেছেন এবং সেই সম্পদ মার্কিন অর্থ ব্যবস্থার মধ্যে আছে। এসব সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আর এ কারণেই পুতিনের পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে।
এর আগে রাশিয়ার তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা অর্থহীন। কারণ, ঘোষিত সম্পদ ছাড়া তার আর কোনো সম্পদ নেই। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এমন দাবি বিশ্বাস করছে না। তাদের দাবি, পুতিন ও তার সহযোগীরা প্রচুর অঘোষিত সম্পদের মালিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা বিশাল সব বাড়ি, মেগা-ইয়ট, শিল্পসামগ্রী ও অন্য দামী সামগ্রী কিনে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, পুতিনের বড় মেয়ে মারিয়া বায়োলজি ও মেডিসিন নিয়ে পড়েছিলেন। তারপর তিনি জেনেটিকস নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি একজন ডাচ ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেছেন বলে জানা যায়। এছাড়া তিনি বই লেখেন। অপরদিকে ক্যাটেরিনা পুতিনের দীর্ঘদিনের বন্ধুর ছেলেকে বিয়ে করেছেন। তার স্বামী শামালভ রাশিয়ার একটি ব্যাংকের অংশীদার। স্বামী-স্ত্রীর দুইশ কোটি ডলারের কর্পোরেট সম্পদ আছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞায় পুতিনের পরিবার ছাড়াও রাশিয়ার অন্য নেতাদের পরিবারকেও টার্গেট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুসতিন, তার স্ত্রী ও সন্তানেরা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ হিসেবে হোয়াইট হাউস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, রাশিয়ার মানুষকে বঞ্চিত করে এই ব্যাক্তিরা নিজেরা ধনী হযেছেন। তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাকে সমর্থন ও সাহায্য করছেন। তাই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।




