অনেক ঘাট পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
পোস্ট ডেস্ক :

ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর সুনাম আগে থেকেই। এ ছাড়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই হিসেবে তিনি আলাদা পরিচিতি পান। এসব পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তরতর করে উঠে যাওয়া মিয়া মোহাম্মাদ শাহবাজ শরিফ এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
পাকিস্তানের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ তথা জাতীয় পরিষদের ৩৪২ ভোটের মধ্যে ১৭৪ ভোট পেয়ে আজ সোমবার দেশটির ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন শাহবাজ।
জাতীয় রাজনীতিতে এ শীর্ষ অর্জনের আগে অনেক ধাপ পেরিয়ে এসেছেন তিনি।
১৯৫০ সালে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন শাহবাজ শরিফ। একসময় দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের একজন হয়ে ওঠেন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব কম্পানির অংশীদার তিনি। ১৯৮৫ সালে লাহোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে শাহবাজ শরিফের বিচরণ শুরু নিজ এলাকা দিয়ে। পাঞ্জাবের আইনসভার সদস্য হিসেবে তিনি প্রথম নির্বাচিত হন ১৯৮৮ সালে। ১৯৯০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের সদস্য হলেও প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে পুরোপরি বিচ্ছিন্ন হননি। ১৯৯৩ সালে তিনি ফের পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন এবং বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯৭ সালে আরেক ধাপ এগিয়ে যান শাহবাজ শরিফ। সে বছর নির্বাচনে জিতে তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানে জেনারেল পারভেজ মোশাররফের শাসন জারি হওয়ার আগ পর্যন্ত শাহবাজ নিজ পদে বহাল ছিলেন। এরপর প্রায় এক দশক বড় ভাই নওয়াজ শরিফের সঙ্গে তাঁকে সৌদি আরবে নির্বাসনে থাকতে হয়েছে। দেশে ফিরে ২০০৮ সালে তিনি আবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সে বছর তিনি পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদে তিনটি এবং জাতীয় পরিষদে একটি আসন জেতেন। তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বকালে পাঞ্জাবের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়। পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের তরফে বলা হয়, পাঞ্জাবের মেট্রো বাস প্রকল্প শাহবাজের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। বিভিন্ন অর্জন নিয়ে তিনি ২০১৩ সালে তৃতীয়বারের মতো পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। শাহবাজ নিজেকে বলতেন প্রদেশের ‘প্রধান ভৃত্য’।
পাঞ্জাবের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ২০১৮ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে জয় পান কেবল একটি আসনে। পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে সেবার জেতেন দুটি আসনে। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়েও নামেন। সেবার ইমরান খানের কাছে হেরে যান। আর এখন অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে ইমরান খানের বিদায়ের পর তিনিই হলেন পাকিস্তানের সরকারপ্রধান। ঘনিষ্ঠ মহলে কাজপাগল মানুষ হিসেবে পরিচিত শাহবাজ শরিফ।




