ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট
শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ভারতের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে

Published: 9 May 2022

পোস্ট ডেস্ক :


শ্রীলঙ্কার তিনটি দ্বীপে একটি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। প্রথমে যখন চীনের একটি কোম্পানি সেই কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল তখন ভারত তাতে আপত্তি জানিয়েছিল। কারণ এই প্রকল্পটি ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূল থেকে মাত্র ৩০ মাইল দূরে অবস্থিত। তবে এবার সেই কাজটি ভারতের হাতেই তুলে দিলো শ্রীলঙ্কা। গত ২৮শে মার্চ ওই সমঝোতাটি স্বাক্ষরিত হয়। শ্রীলঙ্কার এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ভারতের জন্য একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এটিকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ভারত শ্রীলঙ্কার উপর থেকে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলা করতে পারবে।

গত ১২ই এপ্রিল শ্রীলঙ্কা ঘোষণা করে, তারা আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধ স্থগিত করবে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে নতুন দর কষাকষি শুরু করবে। শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন ছিল ভারতের। অপর দিকে চীন এর বিরোধীতা করে।

ভৌগলিক দিক থেকে শ্রীলঙ্কা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুটের কাছে অবস্থিত

দীর্ঘদিন ধরেই একে নিজের অধীনে রাখতে লড়ছে চীন, ভারত ও পশ্চিমা বিশ্ব। চীনের বেল্ট এন্ড রোড প্রকল্পের অধীনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। সংকট শুরু হওয়ার পর ভারত শ্রীলঙ্কাকে অর্থনৈতিক দিক থেকে সহযোগিতা করতে শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে কলম্বোর চীনের কোল থেকে ভারতের দিকে হেলে পড়ার বিষয়টি সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের গবেষক তানভি মদন বলেন, আমি নিজেও বিশ্বাস করি যে গত কয়েক মাসে ভারত শ্রীলঙ্কার উপরে কিছুটা প্রভাব বৃদ্ধি করতে পেরেছে। ভারত বুঝাতে চাচ্ছে, চীন হয়তো প্রচুর ঋণ নিয়ে হাজির হবে কিন্তু পরিস্থিতি যখন খারাপ হবে তখন ভারতই সবার আগে এগিয়ে আসবে।
শ্রীলঙ্কার ঋণ পরিশোধ না করার সিদ্ধান্তে চীন অখুশি হয়েছে। এ নিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী আলি সাবরি জানান, এরইমধ্যে কলম্বোতে নিযুক্ত চীনা দূত এ নিয়ে তার অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বিষয়টি নিয়ে চীন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা কোনো সাড়া দেয়নি। চীন চেয়েছিল, শ্রীলঙ্কা তাদের থেকে আরও একটি বড় ঋণ গ্রহণ করুক এবং এই সংকট সমাধান করুক। কিন্তু সাবরি বলেন, চীন থেকে আবারও ঋণ নেয়া শ্রীলঙ্কার জন্য কোনো টেকসই সমাধান নয়।

আইএমএফ থেকে অর্থ পাওয়ার আগে শ্রীলঙ্কাকে দেখাতে হবে যে তার অর্থনীতি এবং ঋণ গ্রহণ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দেশটি যে পরিকল্পনার করা জানিয়েছে তার মধ্যে আছে, ট্যাক্স বৃদ্ধি, ব্যয় হ্রাস এবং রাষ্ট্রের অধীনে থাকা সম্পদ বিক্রি। সাবরি জানান শ্রীলঙ্কার ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ শূন্যের কাছাকাছি। ভারত সহযোগিতা করায় কিছুটা সময় বেশি পাচ্ছে তারা। নয়া দিল্লি এরইমধ্যে ১.৫ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে কলম্বোকে। সামনেও ভারত শ্রীলঙ্কার পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন সাবরি।

এর বিপরীতে ভারত ওই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের চুক্তিটি নিজের করে নিতে পেরেছে। জাফনা শহরের এই প্রকল্পটিকে দেখা হচ্ছে ভারতের জন্য বড় জয় হিসেবে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে চীনের সিনো সোয়ার হাইব্রিড টেকনোলজি এই কন্ট্রাক্টটি পেয়েছিল। ভারত তখন এ নিয়ে আপত্তি জানালে পুরো প্রক্রিয়াটি থেমে যায়। ডিসেম্বর মাসে চীনের দূতাবাস জানায়, এই বিনিয়োগ মালদ্বীপে নিয়ে যাচ্ছে তারা।