মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা

Published: 6 June 2022, 8:06 AM

পোস্ট ডেস্ক :


ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ভারতীয় রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র নুপুর শর্মার আপত্তিকর মন্তব্যে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরবসহ অনেক মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। গতকাল রবিবার (৫ জুন) এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দার তথ্য জানিয়ে তার বরাখাস্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়, সব ধর্মের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়ে এ ঘটনায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এর মুখপাত্র থেকে নুপুর শর্মাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তে ভারত সরকারকে স্বাগত জানায় সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ বেশ কিছু দেশ। পাশাপাশি ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতীক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সম্মানহানি না করা ওপর জোর দিয়ে সৌদি আরব নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।

সম্প্রতি একটি টিভি বিতর্কের অনুষ্ঠানে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করায় নুপুর শর্মা নামে এক রাজনৈতিক মুখপাত্রকে তার পদ থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের ক্ষমতাসীম দল বিজেপি। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এমন মন্তব্যের তীব্র জানায় সৌদি আরবসহ কুয়েত, কাতার, ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো।

এদিকে কাতার ও কুয়েতে ভারতের রাষ্ট্রদূতদের তলব করে চিঠি দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের নিন্দা জানানো হয়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে দোহায় তলব করে তীব্র নিন্দা জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে ভারত সরকারকে অবিলম্বে নিন্দা ও ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়। তাছাড়া নুপুর শর্মা ও নবীন কুমার জিন্দালের মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এদিকে কূটনৈতিকভাবে তা মীমাংসার চেষ্টা করছে ভারতীয় দূতাবাসগুলো। কাতার ও কুয়েতে ভারতীয় দূতাবাসগুলো রাষ্ট্রদূতদের সূত্রে জানায়, টুইটগুলো কোনোভাবেই ভারত সরকারের মতামতকে প্রতিফলিত করে না। তাছাড়া এ মন্তব্যকে ‌‘প্রান্তিক উপাদানের’ মতামত বলে আখ্যায়িত করা হয়।

গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, যেকোনো সম্প্রদায় বা ধর্মের অবমাননা বা সম্মানহানি করে এমন সব মতাদর্শের তীব্র বিরোধিতা করে দলটি। কিন্তু কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির এমন বিবৃতিকে ‘নির্লজ্জ ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়’ বলে উল্লেখ করা হয়। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এক টুইট বার্তায় লিখেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার মন্তব্যের পর সৌদি, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ভারতীয় পণ্য সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ’

এদিকে সৌদিভিত্তিক মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ভারতে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি নিয়মতান্ত্রিক তীব্র ঘৃণা ও দুর্ব্যবহার অনুশীলনের প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। ’

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের নিন্দা জানান গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এর মহাসচিব নায়েফ ফালাহ আল হাজরাহ। এক বিবৃতিতে তিনি সব নবী-রাসুল এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও চিহ্নাবলির অবমাননা ঘটে এমন কার্যক্রমকে প্রত্যাখ্যান করেন। ধর্ম ও বিশ্বাসের অবমূল্যায়নে প্ররোচিত করে এমন কার্যকলাপ বন্ধে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্রের মন্তব্যকে ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যায়িত করে। তাতে আরো বলা হয়, এ ধরনের আচরণ পুরো বিশ্বকে ধ্বংসাত্মক সংকট ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে।

ভারতের আলোচিত জ্ঞানবাপী মসজিদ ইস্যুতে গত সপ্তাহে এক টেলিভিশন টকশোতে মহানবী (সা.) প্রসঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্য করেন নূপুর শর্মা। এ ঘটনায় কানপুরের মুসলিমদের মধ্যে বিক্ষোভ তৈরি হয়। এছাড়া নবীকে নিয়ে নাভিন কুমার জিন্দালও টুইটারে পোস্ট করেন। এতে মুসলিমদের মধ্যে আরও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তিনি এই টুইট পরবর্তীতে মুছে দেন।

এর জেরে গত শুক্রবারে কানপুরের একপক্ষ স্থানীয় বাজার বন্ধ করার আহ্বান জানালে অপরপক্ষ পাল্টা অবস্থান নেয়। এর পরে সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়। এর মধ্যে ২০ জন পুলিশ সদস্য।

ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় পুলিশ ৩৬ জনকে গ্রেফতার করেছে, মামলা দায়ের করেছে ১ হাজার ৫০০ লোকের বিরুদ্ধে।