পদত্যাগ করলেন ঋষি সুনাক ও সাজিদ জাভিদ

Published: 6 July 2022, 7:56 AM

পোস্ট ডেস্ক :


পদত্যাগ করেছেন বৃটিশ সরকারের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী। মঙ্গলবার কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই পদত্যাগের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। এতে করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। হুমকিতে পড়েছে জনসনের রাজনৈতিক ভবিষ্যতও। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়েছে, এই পদত্যাগের ফলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি তার দল কনজার্ভেটিভ পার্টিও বড় সংকটে পড়েছে। এর আগে এতো বড়ো বিপদের মুখে কখনো পড়েন নি জনসন। এখন এই সঙ্কট কাটিয়ে তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন কি না সেটাই দেখার বিষয়। সম্প্রতি যৌন অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত এমপি ক্রিস পিঞ্চারকে সরকারে নিয়োগ দেয়া নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন জনসন। তবে এরপরই দলের দুই মন্ত্রী তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

যদিও পিঞ্চারের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর গত সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে তার এমপি পদ বাতিল করা হয়। প্রধানমন্ত্রী জনসনও স্বীকার করেন যে, এমন একজন ব্যক্তি যে সরকারি চাকরির জন্য যোগ্য নন সেটা বুঝতে না পেরে তিনি ভুল করেছেন।

ক্ষমতায় বসার পর থেকেই বিতর্ক পিছনে লেগে আছে জনসনের। কোভিড মহামারির বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করে পার্টি আয়োজন করে এ বছরের প্রথমে ভয়াবহ চাপের মুখে ছিলেন তিনি। এজন্য পুলিশ তাকে জরিমানাও করেছে। তখনও তার পদত্যাগের জন্য চাপ আসতে থাকে বিরোধী শিবির থেকে। কিন্তু ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ ছিলেন জনসন। তবে এবার যে সংকটে তিনি পড়েছেন তা সামলানো তার জন্য কঠিন হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
পদত্যাগের কথা জানিয়ে বৃটিশ দুই মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তারা সরকার পরিচালনার মান বজায় রাখতে জনসনের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ঋষি সুনাক বলেন, জনগণ আশা করে যে যথাযথভাবে, দক্ষতা ও গুরুত্বের সঙ্গে সরকার পরিচালিত হবে। ঋষি সুনাক ভারতীয় বংশোদ্ভূত বৃটিশ এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় জনগণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য নানা ধরনের অর্থ সহযোগিতার কথা ঘোষণা করে ব্যাপক জনপ্রিয় ও আলোচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। অপরদিকে সাজিদ জাভিদ বলেন, একের পর এক কেলেঙ্কারির পর তিনি মনে করেন না যে এই সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখতে পারবেন। অনেক এমপি এবং জনগণ জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী জনসনের ক্ষমতার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বৃটিশ রাজনীতিক সাজিদ জাভিদ এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য ও অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের পর বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টার্মার বলেছেন, এটা এখন পরিষ্কার যে সরকার ভেঙে পড়ছে। মাত্র গতমাসেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার দলের এমপিদের এক আস্থা ভোটে জয়ী হন। যদিও দলের বিশাল সংখ্যক এমপি তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। এ কারণে বৃটিশ আইন অনুসারে আগামী এক বছর প্রধানমন্ত্রী জনসনের বিরুদ্ধে নতুন করে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করা যাবে না। তবে কয়েকজন এমপি তাকে ক্ষমা থেকে সরানোর জন্য এই আইন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।