বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে নতুন করে দেখাচ্ছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ

Published: 13 July 2022, 7:35 AM

পোস্ট ডেস্ক :


জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দিয়ে মহাবিশ্বকে নতুন করে দেখতে শুরু করেছে মানুষ। মহাবিশ্বের এমন রঙিন এবং নিখুঁত ছবি এর আগে আমরা দেখিনি। কয়েকশ কোটি বছর আগের মহাবিশ্ব দেখতে কেমন ছিল তা স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে জেমস ওয়েবের সেন্সরে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসা। আর এগুলো হচ্ছে মহাজগতের প্রাচীনতম অবস্থার সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে তোলা চিত্র। এই ছবিতে যে ছায়াপথগুলো ধরা পড়েছে তা প্রায় ১৩৫০ কোটি বছর পূর্বের। অর্থাৎ, আমরা এই ছবিতে প্রায় বিগ ব্যাং-এর সময়কার মহাবিশ্বকে দেখতে পাচ্ছি।

বিবিসি জানিয়েছে, এক হাজার কোটি ডলার মূল্যের এই জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল গত বছর ২৫শে ডিসেম্বর। মহাকাশে সুপরিচিত হাবল টেলিস্কোপের জায়গা নিতে তৈরি করা হয় এই জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। এই টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্র আকাশে অনেক কিছুই পর্যবেক্ষণ করবে। তবে এর প্রধান দুটি লক্ষ্য রয়েছে।

একটি হল মহাকাশে ১৩৫০ কোটি বছর আগে একেবারে প্রথম জন্ম নেয়া তারাগুলোর আলোর বিচ্ছুরণ কীভাবে ঘটেছিল তার ছবি নেয়া। দ্বিতীয়টি হল দূরের গ্রহগুলো মানুষের বাসযোগ্য কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ। এতে ৬.৫ মিটার চওড়া সোনার প্রলেপ লাগানো প্রতিফলক আয়না আছে এবং আছে অতি সংবেদনশীল ইনফ্রারেড তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের যন্ত্রপাতি। এই টেলিস্কোপ ছায়াপথের বেঁকে যাওয়া আকৃতির ছবি ধরতে সক্ষম হয়েছে। বিগ ব্যাং বা মহা বিস্ফোরণের পর এই ছায়াপথগুলো স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬০ কোটি বছর পর্যন্ত। মহাজগতের বয়স বলা হয় ১৩৮০ কোটি বছর। আর ছবিতে ধরা পরেছে ১৩৫০ কোটি বছর আগের চিত্র। আরও বড় সুখবর হচ্ছে, এই টেলিস্কোপ দিয়ে আরও অতীতের ছবি তোলা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে, অতি শক্তিশালী এই দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে মহাশূন্যের অনেক ভেতর পর্যন্ত এখন দেখা এবং তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

এ নিয়ে নাসার বিজ্ঞানী বিল নেলসন বলেন, আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল। আর এই ছবিতে আপনি ছোট ছোট যে আলোর বিচ্ছুরণ দেখতে পাচ্ছেন, সেগুলো ভ্রমণ করেছে ১৩০০ কোটি বছর! তবে আমরা আরও পেছনে ফিরে যাচ্ছি। কারণ এটা হল প্রথম ছবি। ওরা সাড়ে ১৩০০ কোটি বছর পেছনের ছবি তুলতে যাচ্ছে। আমরা যেহেতু জানি মহাজগতের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর, তাই আমরা মহাবিশ্ব সৃষ্টির একেবারে গোড়ায় ফিরে যেতে পারছি।

হাবল টেলিস্কোপকে এধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে আকাশে পর্যবেক্ষণ করতে হতো। কিন্তু জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ মাত্র সাড়ে ১২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে মহাবিশ্বের গভীর থেকে এই ছবি তুলে এনেছে। এছাড়া এটি দিয়ে অন্য গ্রহ ও নক্ষত্রগুলোকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ওয়েব টেলিস্কোপ ‘ওয়াস্প-৯৬ বি’ নামে একটি বিশালাকৃতির গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করেছে। এই গ্রহ পৃথিবী থেকে এক হাজার আলোক বর্ষ দূরে। এই টেলিস্কোপ আমাদের ওই গ্রহের আবহাওয়া মণ্ডলের রসায়ন জানাতে পারবে। আস্তে আস্তে এ ধরনের গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে একটা ধারণা পাবার সম্ভাবনা তৈরি হবে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে এ বিষয়ে নাসার বিজ্ঞানীদের কোন সন্দেহ নেই।