বাইডেনের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিলেন সৌদি প্রিন্স

Published: 17 July 2022, 8:41 AM

পোস্ট ডেস্ক :


সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে সাংবাদিক ও লেখক জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ডকে ন্যক্কারজনক বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ নিয়ে নানা প্রশ্নও তুলেছেন জো বাইডেন। জবাবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সহ যেকোনো দেশেরই এমন ভুল হয়। তিনি খাসোগির হত্যাকাণ্ডকে দুর্ভাগ্যজনক ও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সামরিক বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে প্রস্তাবও করা হয়নি। আলোচনাও হয়নি। ‘আরব ন্যাটোর’ মতো কোনো ব্যাপারও নেই। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোট বা সম্পর্কের কোনো আলোচনা হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ।

এতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দুই নেতার মধ্যে আলোচনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। বলেছেন, জো বাইডেনের সঙ্গে আলোচনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও একে অন্যের মৌলিক মূল্যবোধের প্রশংসা করবে এমনটা তুলে ধরেছেন ক্রাউন প্রিন্স।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
তিনি বলেন, খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে জো বাইডেন যেসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন, তার পরিষ্কার এবং পরিপূর্ণ জবাব দিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। তিনি বলেছেন, এই অপরাধ দুর্ভাগ্যজনক ও ভয়াবহ। সৌদি আরবের জন্য এটা খুবই সিরিয়াস বিষয়। একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে এক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি আরব। এ ধরণের ভুল যেকোনো দেশেই ঘটে, যুক্তরাষ্ট্রেও ঘটে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফারহানের মতে, ক্রাউন প্রিন্স এটা জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রও ভুল করে। তারা এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেয়, বিচার করে এবং প্রয়োজনীয় দরকারি পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এ সময় ইরাকের আবু ঘ্রাইব কারাগারে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেন। জানিয়ে দেন ২০২১ সালে আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। তাতে পুরো একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেছেন, ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদেরকে জবাবদিহিমুলক দেখিয়েছে। সৌদি আরবও সেই একই কাজ করে।

প্রিন্স ফারহান বলেন, এর বাইরে মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন জো বাইডেনের কাছে ক্রাউন প্রিন্স সৌদি আরবে মানবাধিকারের মৌলিক মূল্যবোধের সম্মানের বিষয় তুলে ধরেছেন। এই মূল্যবোধ ইসলামিক বিশ্বাস ও আরব ঐতিহ্যের অংশ। তিনি আরও বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ক্রাউন প্রিন্স আরও বলেছেন, এই মূল্যবোধ আলোচনার মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে- বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার নিজের মূল্যবোধ অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে তা কার্যকর হবে না। এতে আপনার ওপর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসবে। সঠিক পথ হলো আপনার মূল্যবোধকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। তারপর যদি আপনার মূল্যবোধ বৈধ হয়, বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে তা গৃহীত হবে।

কিন্তু যদি আপনার মূল্যবোধ অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। আপনি বুঝতে পেরেছেন যে, আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ আছে। তা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের সঙ্গে শতভাগ এক হবে না। কিন্তু আমাদের নিজস্ব রীতিনীতি, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আমরা খুবই গর্বিত। প্রতিটি দেশই তার নিজস্ব সিস্টেমকে এবং মূল্যবোধকে সুরক্ষিত রাখতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে যে আলোচনা চলছে তা ইতিবাচক। এখনও এ বিষয়টির কোনো ফলাফল অর্জন হয়নি। তবে সৌদি আরব নিশ্চিত করেছে যে, সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইরানের প্রতি হাত প্রসারিত করেছে। এ ছাড়া ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির জন্য ব্যাপকভিত্তিক কাজ করছে সৌদি আরব। হুতিদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, ইয়েমেনের স্বার্থ নিহিত আছে শান্তি ও স্থিতিশীলতায়। তবে ইয়েমেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ভূমিকা রাখছে ইরানের অস্ত্র। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একমাত্র সমাধান হলো আলোচনা ও কূটনীতি।