কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে সার্বিয়া

Published: 2 November 2022

পোস্ট ডেস্ক :


সার্বিয়াকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে চায় নাকি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়— এমন শর্ত দিয়েছে জার্মানি।

মঙ্গলবার বার্লিনে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়ে পশ্চিম বলকান ছয়টি রাষ্ট্রের আলোচনার দুদিন আগে সার্বিয়াকে এ শর্ত দেয় জার্মানি।

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ প্রসঙ্গে জার্মান সরকারের উচ্চপদস্থ একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা মাথায় আসছে’।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দশক আগে বেলগ্রেডে ন্যাটোর বোমা হামলা দেশটির পক্ষে কখনও ভোলা সম্ভব নয়। ফলে ন্যাটোর ওপর সার্বিয়ারও একটি অবিশ্বাস কাজ করে। কিন্তু এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে চায় তারা। দেশটির রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভূচিচের ওপর পুতিন নির্ভর করতে পারেন। ভুচিচকে তার প্রতিপক্ষরা ‘ছোট পুতিন’ হিসেবেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। রাশিয়ার সঙ্গে সার্বিয়ার গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং স্লাভিক জাতিগত ও ধর্মীয় সম্পর্কও বিদ্যমান।

জার্মানির প্রতিনিধি আরও বলেন, সহযোগিতার বিষয়ে সার্বিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে একটি চুক্তির কারণে বিস্ময় এবং হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের যোগদানে ইচ্ছুক প্রার্থীদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর নিষেধাজ্ঞাগুলো গ্রহণ করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

সার্বিয়া ২০১২ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার দাবিদার। তবে সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে নিয়মিত পররাষ্ট্রনীতি সক্রিয় রেখেছে দেশটি। এ পদক্ষেপটির কঠোর সমালোচনা করছে ইইউ।

তিনি আরও বলেন, একজনের ধারণা ছিল যে, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ তার পেন্ডুলাম অবস্থান সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। তিনি যদি তার দেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্দেশে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাতে জার্মান সরকারের সমর্থন আছে। যদি অন্য পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এর বিপরীতে পরিণতি এসে দাঁড়াবে।