যৌথ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত:

যৌথ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত:
ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস

Published: 30 September 2026

সোহিনী মন্ডল:

ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবার অস্ত্র কেনাবেচার পরিচিত কাঠামো পেরিয়ে আরও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প অংশীদারিত্বের দিকে এগোতে চাইছে। যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ভবিষ্যৎ অস্ত্র রপ্তানির সম্ভাবনাকে সামনে রেখে দুই দেশ তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক এই সম্পর্কের গুরুত্বকে আরও সামনে এনেছে। দুই নেতার সাক্ষাৎকে ঘিরে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্য “এমন এক বন্ধন যা ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হচ্ছে” দুই দেশের সম্পর্কের রাজনৈতিক উষ্ণতারই প্রতিফলন।

তবে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এখন শুধু রাজনৈতিক সৌহার্দ্য নয়, শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিই হয়ে উঠছে মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে। কিন্তু পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দিল্লির লক্ষ্য ক্রমশ হয়ে উঠছে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন।

এই প্রেক্ষাপটে যৌথ উৎপাদন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। রুশ প্রযুক্তি ও ভারতের বৃহৎ শিল্পভিত্তি একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন কাঠামো দিতে পারে।

এর পাশাপাশি রপ্তানি-কেন্দ্রিক প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ধারণাটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত যদি যৌথভাবে তৈরি উন্নত অস্ত্র তৃতীয় দেশগুলিতে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে তা শুধু প্রতিরক্ষা শিল্পকেই শক্তিশালী করবে না, ভারতের কৌশলগত প্রভাবও বাড়াতে পারে।

তবে এই সহযোগিতার সামনে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাত্রা, উৎপাদন ব্যয়, মেধাস্বত্ব, রপ্তানি বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো একাধিক বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তাই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর্যায়ে। অতীতের ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং সম্ভাব্য রপ্তানির দিকে এগোনোই হতে পারে আগামী দিনের মূল দিক। দুই দেশ সেই পরিবর্তন কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের পরবর্তী অধ্যায়।