ফৈয়জুর রহমান ফৈয়াজ এক নির্ভীক রাজনীতিক

Published: 15 July 2026

।। আব্দুর রহিম শামীম।।


মরহুম ফৈয়জুর ফরমান ফৈয়াজ চেয়ারম্যান ছিলেন এক নিবৃত দেশ প্রেমিক তিনি শৈশব থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ প্রেমের দীক্ষা লাভ করেন, তিনি ৬ দফা আন্দোলন কে জনপ্রিয় করে তুলতে বিয়ানী বাজার উপজেলার প্রতন্ত অঞ্চলে চষে বেড়িয়েছেন ।
মহান স্বাধীনতার সংগঠক হিসেবে দিনের পর দিন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করতে কাজ করেছেন এবং বিয়ানী বাজারে আওয়ামীলীগ কে শক্তিশালী করতে গিয়ে তিনি জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছেন এবং বিয়ানী বাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন ।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধ কে সংগঠিত করতে ভারতে পাড়ি জমান এদিকে রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে নিয়ে তাঁর বড়দেশের বাড়িটি আগুনে জ্বালিয়ে দেয় ।
স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন । ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং সৎ সাহসী ।
১৯৭৫ সালে জাতির জনক কে স্বপরিবারে হত্যার পর খুনিরা আওয়ামীলীগ কে ধ্বংস ও নির্মূল করার জন্য সারা দেশে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতন চালায় এবং তারই অংশ হিসেবে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এম এ আজিজ , সাধারণ সম্পাদক আকাদ্দাস সিরাজ সহ ফৈয়জুর রহমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে এবং তার উপর নির্যাতন চালায় । তারপর ও জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি দল কে সংগঠিত করতে মুক্কম ভূমিকা পালন করেন, তিনি ছিলেন আদর্শের প্রতি অবিচল এবং নিবেদিত প্রাণ সংগঠক, তিনি ছিলেন অত্যন্ত নির্ল্যুভ এবং সৎ ব্যক্তিত্ব ।
১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসার বিশাল জনসভায় জনাব ফৈয়জুর রহমানকে পুরস্কৃত করেন যা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এবং আমাদের বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী পরিবার এবং সমগ্র বিয়ানীবাজার বাসীর জন্য গর্ব ও অহংকারের বিষয়।

আমি তখন খুবই ছোট ছিলাম সম্ভবত ক্লাস এইটের ছাত্র তখন সিলেট যাচ্ছি বাসে চড়ে বসেছি একটু পর উনি এসে আমার পাশে বসলেন , আমি উনাকে সালাম দিলাম , উনার ব্যক্তিত্ব পূর্ণ চেহারা , পাঞ্জাবী পায়জামা পরিহিত তবে পাঞ্জাবীর উপর মুজিব কূট যেন তাঁকে অন্যরকম সচ্ছলতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে, যাক পরিচয় হলো উনিই আমার ব্যাপারে জানতে চাইলেন এবং ঘুরে ফিরে রাজনীতির কথায় দেশের কথায় ফিরে আসেন, আমি তখন উনাকে বলি আমি স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, উনি খুশি হয়ে আমাকে ও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরেন, যাক উপদেশ মূলক অনেক কথা বললেন সমগ্র যাত্রাপথ যেনো উনার ব্যক্তিত্ব পূর্ণ ও দেশ প্রেমে উজ্জীবিত কথা বার্তায় নিমিষে কেটে গেল সেই থেকে উনার সাথে পরিচয় ।
তারপর কলেজে পড়ার সময় ছাত্রলীগের কর্মী হিসাবে ও উনার সান্নিধ্য পেয়েছি উনার স্নেহ ভালোবাসা পেয়েছি, আমরা ছাত্রলীগের কর্ম কাণ্ড পরিচালনা করতে বিভিন্ন সময় নানাবিদ সমসায় নিপতিত হতাম তখন আমাদের অভিবাবক হিসেবে যারা সাহায্য সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জনাব ফৈয়াজুর রহমান ।
আমার খুবই মনে পড়ে ছাত্রলীগের নবীনবরণ ও সম্মেলন হবে আমরা সারারাত জেগে মঞ্চ তৈরী এবং কাগজ কেটে ফুল তৈরী ইত্যাদি কাজে অংশগ্রহণ করতাম । তখন গভীর রাতে উনি আমাদের সাথে এসে যোগ দিতেন এবং আপ্যায়ন সহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের উপদেশ ,আদেশ, নির্দেশ দিতেন ।
খুবই মনে পড়ে বিয়ানী বাজার সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি হবে সাবজেক্ট কমিটি বৈঠকে বসেছে তর্ক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে কিছুতেই একমত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না দল ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে , তখন গভীর রাত হটাৎ দেখি পায়ে হেঁটে জনাব ফৈয়জুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব, এম এ আজিজ , জনাব মনিরুল ইসলাম মিম্বই, জনাব মইনুল ইসলাম ( পরবর্তীতে উপজেলা আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব আজিজুর রহমান তেরা এসে উপস্থিত হন । সারারাত আলাপ আলোচনা করে নেতৃবৃন্দ দল কে সম্ভাব্য ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেন । যদিও পদ পদবী না পেয়ে অনেকে মন খারাপ করে তবু ও এই বর্ষীয়ান নেতাদের সম্মানে মুখ বুজে মেনে নিতে হয় ।
আমার মনে পড়ে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন তখন তুঙ্গে আমরা হরতাল হরতাল পালন করছি সারা শহর নিথর নিঃস্তব্ধ, দোকান পাট সব বন্ধ আমরা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে মধ্যবাজারে আসলে সেখানে থাকা পুলিশ গুলি বর্ষণ করে মুহূর্তের মধ্যেই দিক বিদিক ছুড়াছুড়ি আর দৌড়া দৌড়ি শুরু হয় তখন আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি এবং মিছিলে মাত্র কয়েকজন ছিলাম এবং আমরা ও পাল্টা পুলিশকে লক্ষ করে ঢিল ছুঁড়তে থাকি , এমন এক মারমুখী মুহূর্তে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন জনাব ফৈয়াজুর রহমান । তিনি পুলিশের সাথে আলাপ করেন এবং আমাদের ও শান্ত করেন, সেদিন উনি বীর দর্পে এগিয়ে না এলে হয়তো লাশ পড়ত অনেকের জীবন যেতো ।

ব্যক্তিগত জীবনে উনি খুবই সৎ জীবন যাপন করতেন , জমি জায়গা বিক্রি করে ও দলের জন্য কাজ করেছেন । আমি এই মহান দেশপ্রেমিক নেতার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি উনি যেনো আমাদের প্রিয় নেতাকে বেহেস্তের উঁচু মাকামে আসীন করেন- আমীন
।। লেখক-সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।