ইরান যুদ্ধের ৫০ দিনে ক্ষতি ৫০ বিলিয়ন ডলার

Published: 18 April 2026

পোস্ট ডেস্ক :


ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই সংঘাত পরিণত হয় বৈশ্বিক জ্বালানি যুদ্ধে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে গেল ৫০ দিনে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন (৫ হাজার কোটি) ডলারেরও বেশি।

এর পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় দেশের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ও বিশ্ব জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান।

সবশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ইরানি বন্দর বন্ধ ঘোষণার জেরে টালমাটাল হয়ে যায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। যদিও ইরানের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ হওয়ায় দীর্ঘ ৪৭ দিন পর হরমুজ সচল হয়। কিন্তু মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি আবারও বন্ধ করে দেয় ইরান। এ অবস্থার মধ্যে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আধুনিক ইতিহাসের সবথেকে বড় জ্বালানি বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করে এক পরিসংখ্যানে রয়টার্স বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের তেলের চাহিদার সমান। আর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

এ ছাড়া চলমান এই যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৬টি আরব দেশের গড় তেল বিক্রির পরিমাণ কমেছে ২০৬ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি।

রয়টার্স বলছে, বিশ্ববাজারে ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সরবরাহ ঘাটতি মানে ১০ সপ্তাহের জন্য বিশ্বজুড়ে সব পরিবহন ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনা। যদি এই তেলের মজুদ না থাকে তাহলে অন্তত ১১ দিন সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকতে পারে। এমনকি ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ আটকে যাওয়া মানে ৫ দিনের জন্য পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকা।

আরো বলা হচ্ছে, এই জ্বালানি পুরো ইউরোপের এক মাসেরও বেশি সময়ের চাহিদার সমান। যা দিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৬ বছরের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা যাবে।

এবং এই জ্বালানি দিয়ে পুরো পৃথিবীর শিপিং ইন্ডাস্ট্রি চালানো যাবে প্রায় ৪ মাস পর্যন্ত।
গত মার্চ মাসে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে পারেনি। এটি বিশ্বের দুই বড় কম্পানি এক্সন মবিল ও শেভরনের সম্মিলিত উৎপাদনের সমান।

সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো থেকে বিমানের জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। যেখানে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল রপ্তানি হতো, মার্চ ও এপ্রিলে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ লাখ ব্যারেলে।

এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুদ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ব্যারেল কমেছে এবং মার্চ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা কাটিয়ে ওঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।