তুরস্কে বিরোধী দলের কার্যালয়ে পুলিশের তাণ্ডব, রণক্ষেত্র আঙ্কারা

Published: 24 May 2026

পোস্ট ডেস্ক :


তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিক পিপল’স পার্টির (সিএইচপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার (২৪ মে) দেশটির পুলিশ ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান ঘিরে সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এপি জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা অচলাবস্থার পর পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে সিএইচপি’র কার্যালয়ে প্রবেশ করে, সেখানে দলটির সমর্থক ও কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কার্যালয়ের ভেতরে ও চত্বরে ব্যাপকভাবে টিয়ার গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে এবং দাঙ্গা পুলিশ জোরপূর্বক প্রবেশ করছে।
এ সময় বাইরে জড়ো হওয়া সিএইচপি’র নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেটও ছুড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। অভিযানের পর সাংবাদিকদেরও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

এপি জানায়, দেশটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরেই গত বৃহস্পতিবার সহিংস পরিস্থিতির সূত্রপাত। সে দিন দেশটির আদালত ২০২৩ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সিএইচপি’র নেতৃত্ব নির্বাচনের ফল বাতিল করে।
এদিন আদালতের রায়ে সিএইচপি’র দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচিত ওজগুর ওজেলের নিয়োগ স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি দলটির নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্যকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

দেশটির আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিএইচপি’র নতুন অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে সাবেক দলীয় প্রধান কামাল কিলিচদারওগলুকে। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর দলটির নেতৃত্বে থাকলেও জাতীয় নির্বাচনে দলকে ক্ষমতায় আনতে ব্যর্থ হন। তবে এই রায় মানতে নারাজ ওজেলের সমর্থকরা।
দলনেতা হিসেবে নিজের প্রথম ও একমাত্র নির্বাচনে ওজেল ২০২৪ সালের পৌরসভা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বিরোধীদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মাধ্যমে দলটিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে, কারণ দলটি তার সদস্য ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে চালানো একের পর এক আইনি মামলার চাপে জর্জরিত।

দেশটিতে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এরদোয়ান আগাম ভোটের ডাক দিতে পারেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, সিএইচপি’র সদস্য ও ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু গত বছরের মার্চ থেকে কারারুদ্ধ আছেন।
এপি বলছে, সিএইচপি’র বেশিরভাগ সমর্থক ওজেলকে সমর্থন করে। বৃহস্পতিবার আদালতের রায়ের পরেই ওজেল এবং দলের কর্মকর্তারা তাদের প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এই কারণে কামাল কিলিচদারওগলুর নেতৃত্বাধীন নেতা ও সমর্থকরা সেখানে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। আর এই অচলাবস্থা ঘিরে রোববার সংঘাত শুরু হয় সেখানে। এতে যোগ দেয় এরদোয়ান সমর্থিত পুলিশ বাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার পুলিশি অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওজেল ৩ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেন।
তিনি ক্যাপশনে লিখেন, আমরা আক্রমণের শিকার হচ্ছি। আমাদের অপরাধ কী? ৪৭ বছর পর আমাদের দলকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা এবং ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (একেপি) পরাজিত করা।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবো। আমাদের জোর করে সরানো হলেও আমরা জনগণের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।