সিলেটে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টে রিট

Published: 13 October 2020, 10:47 AM

বিশেষ সংবাদদাতা, ঢাকা : সিলেটে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান আহমেদ (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে-এমন অভিযোগে ঘটনার বিচারিক তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেটের পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার (ডিসি), পুলিশ সুপারসহ (এসপি) সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফজলে এলাহী এই রিট আবেদন করেন। আবেদনের বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন এ আইনজীবী।

গত রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে ওসমানী মেডিক‍্যাল কলেজ হাসপতালে মারা যান রায়হান উদ্দিন। স্বজনদের অভিযোগ, রায়হানকে আটকের পর পরিবারের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হন রায়হান। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাঁর মৃত্যু হয়। তবে পুলিশ যে এলাকায় গণপিটুনির কথা বলছে, সেখানে ওই দিন এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও এলাকাবাসী।

এদিকে ওই ঘটনায় ওই ফাঁড়ির ইনচার্জসহ চার পুলিশ সদস্যকে গতকাল সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে তিনজনকে। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনাস্থল হিসেবে নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কথা বলা হয়েছে।

রায়হান আহমেদ সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। রিকাবীবাজার এলাকায় স্টেডিয়াম মার্কেটে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করতেন তিনি। রায়হান বিবাহিত এবং তাঁর দুই মাসের একটি মেয়ে রয়েছে।

গতকাল সোমবার রায়হানের মামাতো ভাই আবদুর রহমান শাহীন বলেছিলেন, শনিবার রায়হান বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ভোরে অপরিচিত নম্বর থেকে রায়হানের মায়ের কাছে ফোন আসে। ফোনে তাঁদের ১০ হাজার টাকা নিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যেতে বলা হয়।

রায়হানের সৎবাবা হাবিব উল্লাহ বলেন, “ভোরেই পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যাই। সাদা পোশাকে ফাঁড়িতে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘১০ হাজার টাকার কথা বলা হয়েছে। পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে এসেছেন কেন? চলে যান, রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে এবং যে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধরে এনেছেন তিনিও ফাঁড়িতে নেই। আপনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকাল ১০টার দিকে আসেন।’ পরে সকাল ১০টার দিকে টাকা নিয়ে আমি ফের ফাঁড়িতে যাই। তখন পুলিশ সদস্যরা জানান যে অসুস্থ হয়ে পড়ায় রায়হানকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।”

হাবিব উল্লাহ জানান, তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয় যে রায়হানের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ নির্যাতন চালিয়ে রায়হানকে মেরে ফেলেছে।’

আবদুর রহমান শাহীন বলেন, ‘গণপিটুনিতে মারা গেলে রায়হানের দেহের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন থাকত। কিন্তু তাঁর হাতের নখগুলো দেখলে বোঝা যায়, সেগুলো উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। পায়ের হাঁটুর নিচে রড বা লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে।’ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রায়হান কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। এই এলাকাটি নগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।

তবে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম বলেন, ‘আমি এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। কেউই গণপিটুনির বিষয়টি জানেন না। কাষ্টঘরের সুইপার কলোনির গেট, মন্দির ও কালভার্ট সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। রবিবার রাত আড়াইটা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এই সিসিটিভিতে গণপিটুনির কোনো ঘটনা ধরা পড়েনি।’