প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়

Published: 7 November 2020, 2:16 PM

বিশেষ সংবাদদাতা : প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রংপুরের তারাগঞ্জে মাদরাসার এক শিক্ষিকাকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলামকে আটক করা হলেও তাকে ছিনিয়ে নেয় তার স্বজনরা। এ ঘটনায় মেয়ের মামাকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটে তারাগঞ্জ উপজেলার হাঁড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া এলাকায়। এরপর থেকে ঘটনার নায়ক আশরাফুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আজ বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, নুহ হকের কলেজ পড়ুয়া ছেলে আশরাফুল ইসলাম বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের এক মহিলা কওমি মাদরাসার ওই শিক্ষিকাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেয়েটি এতে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত ছিলেন আশরাফুল। মাদরাসার যাওয়া আসার পথে আশরাফুল মেয়েটিকে নানাভাবে বিরক্ত করত। ঘটনার দিন আজ দুপুরের দিকে অসুস্থতাজনিত কারণে মাদরাসার ওই শিক্ষিকা ওষুধ কেনার জন্য একই এলাকার চিলাপাক বাজারে যাচ্ছিল। পথিমথ্যে আশরাফুল ইসলাম তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে সে জানতে চায় তার প্রেমের প্রস্তাসে সে কেন রাজি নয়। এ নিয়ে ওই শিক্ষিকাকে আটক করে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করে। এ সময় মেয়েটি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশরাফুল তাকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এতে মেয়েটির পরনের বোরকা ছিঁড়ে যায়। একপর্যায়ে পরনের বোরকা ছেড়ে দৌড় দেয় সে। এতেও সে রেহাই পায়নি। উল্টো মেয়েটি জাপটে ধরে চড়-থাপ্পড় দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয়।

মেয়ের মামা অভিযোগ করে বলেন, মেয়েটি গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিল। ওষুধ কিনতে যাওয়ার পথে তাকে আটক করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় আশরাফুল। তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি জানার পর প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাওয়া করে আশরাফুলকে আটক করা হয়। কিন্তু তার স্বজনরা খবর পেয়ে আমাকে পিটিয়ে আহত করে আশরাফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এখন প্রভাবশালী আশরাফুলের ভয়ে হতদরিদ্র মেয়ের বাবা থানায় মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন।

হাঁড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বাবুল জানান, এ ঘটনায় মেয়ের পরিবারকে থানায় মামলা দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাদরাসার মুহতামিম (সুপার) আব্দুস সাত্তার বলেন, অসুস্থ থাকার কারণে মেয়েটি ছুটিতে ছিল। সে খুবই ভদ্র ও নম্র স্বভাবের।

এসআই আসাদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বাড়ির লোকজনকেও আশপাশে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবারকে থানায় গিয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারাগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। মামলা হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হবে।