বিয়ানীবাজার পৌরসভায় ট্যাক্স দেন না ৭০ ভাগ নাগরিক !
।। এম.হাসানুল হক উজ্জ্বল।।

বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৭০ ভাগ বাসাবাড়ী, দোকান মার্কেট ও শপিং সেন্টারের মালিকেরা পৌর ট্যাক্স প্রদান করছেন না। আর এসব ট্যাক্স আদায় না হওয়ায় পৌরসভার উন্নয়ন অনেকটা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন।। মেয়র কাউন্সিলররাও রয়েছেন ৮ মাস থেকে বেতন বঞ্চিত। এ নিয়ে অনেকটা হতাশ মেয়র নিজেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে পৌরসভার উন্নয়ন অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাবে এমনটাই জানিয়েছেন খোঁদ মেয়র।
সূত্রমতে, বিয়ানীবাজার পৌরসভা ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮.১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার কার্যক্রম ১৭ বছর চলে প্রশাসক দিয়ে। তারপর ২০১৭ সালের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মো: আব্দুশ শুকুর। তিনিও দায়িত্ব গ্রহনের ৪ বছর পার করেছেন। বিয়ানীবাজরের উন্নয়নে তিনি হাত দেন এবং তার আমলে এই পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।
একটি আধুনিক ও প্রবাসীদের বসবাসের উপযোগি পৌরসভা গঠনের ইশতেহার দিয়ে জনগনের ম্যান্ডেড গ্রহণ করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন মোঃ আব্দুশ শুকুর। নির্বাচিত হয়ে তিনি বিয়ানীবাজার পৌরসভার উন্নয়ন কাজে হাত দেন। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও প্রবাসীদের বসবাসের উপযোগি বিয়ানীবাজার পৌরসভা গঠনের অঙ্গিকার বাস্তবায়নে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রবাসী অধ্যূষিত এই পৌরসভার ট্যাক্স আদায়ে মেয়র অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, মেয়র প্রথম থেকে ট্যাক্স আদায়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রবাসীদের মালিকানাধীন এই শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ী থেকে ট্যাক্স আদায় করতে গিয়ে পৌরসভার কর্মীরা অনেকটা বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। নিয়মিত বিল প্রদানের পরও বাসা বাড়ী ও শপিং সেন্টারগুলোর মালিকগণ ট্যাক্স প্রদান করছেন না। পৌরসভার হিসেব মতে, এখানে প্রায় ৭০ ভাগ বাসা বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্টানের মালিকগণের ট্যাক্স অনাদায়ী রয়েছে। তারা তাগাদা দিয়েও তা আদায় করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে জানতে পৌরসভার মেয়র মোঃ আব্দুশ শুকুর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি আধুনিক ও প্রবাসীদের বসবাসের উপযোগি পৌরসভা গঠনের অঙ্গিকার করায় জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। জনগণকে দেওয়া অঙ্গিকার বাস্তবায়নে কাজ করছি এবং আমার অঙ্গিকারের চেয়ে বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি ট্যাক্স আদায় প্রসঙ্গে বলেন, একটি পৌরসভার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। এই পৌরসভার নাগরিকণ ট্যাক্স আদায়ে অনেকটা উদাসিন উল্লেখ করে বলেন, বড় বড় বাসাবাড়ীর মালিকগণ ট্যাক্স দিতে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন। তারা নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করলে পৌরসভার উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হত। মেয়র বলেন, ট্যাক্স আদায় যাতে ত্বরান্বিত হয় এবং জনগণ যাবে সুযোগ সুবিধা পান সে দিকে লক্ষ্য রেখে অনেকটা ঝুকি নিয়েও মানুষের জন্য কাজ করছি। ট্যাক্স আদায়ে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছি। জনগণ যাতে তাদের ট্যাক্স দিতে কোন অসুবিধা না সে দিকে লক্ষ্য রাখছি। কেউ এ নিয়ে অভিযোগ করতে এলে নিজে তাদেরকে টাকার পরিমান কমিয়ে ট্যাক্স দিতে উৎসাহিত করছি। তারপরও কতিপয় নাগরিক ট্যাক্স দিতে চান না।
মেয়র বলেন, একটি পৌরসভার আয় থেকে পৌরসভার সকলকে বেতন ভাতা দিতে হয়। কিন্তু এই বেতন ভাতার প্রধান উৎস্য হচ্ছে নাগরিকদের ট্যাক্স। নাগরিকগণ যদি নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করতেন তাহলে পৌরসভা আরো ভালো ভাবে চলতো। তিনি বাসা বাড়ীর মালিক, প্রবাসীসহ সকলকে পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থে ট্যাক্স পরিশোধের আহবান জানান।




