যুক্তরাজ্যে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে
পোস্ট ডেস্ক :

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট মহামারীর নতুন ওয়েভ সৃষ্টি করতে পারে যা গত শীতকালের থেকে আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য। এখনই যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে যত সংখ্যক করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তার থেকে ২০২২ এর জানুয়ারিতে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের (এলএসএইচটিএম) বিজ্ঞানীরা।
গত এপ্রিলের আগে ৭৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল কোভিড-১৯ এর কারণে। সায়েন্টিফিক প্যানডেমিক ইনফ্লুয়েঞ্জা গ্রুপ অন মডেলিং (এসপিআই-এম) বা সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ ফর ইমার্জেন্সি (সেজ)-তে বসে থাকা গবেষকরা বলছেন, ওমিক্রনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং তাদের নিয়ে গবেষণা এখনও শেষ হয়নি। এলএসএইচটিএম সেন্টার ফর দ্য ম্যাথমেটিকাল মডেলিং অফ ইনফেকশাস ডিজিজেসের ডাঃ রোজানা বার্নার্ড, যিনি এই গবেষণার সহ-নেতৃত্ব করছেন তিনি জানান, ২০২২ এর শুরুতে বাইরে না বেরিয়ে বাড়ি থেকে বসেই যদি কাজ করা যায় এবং কিছু হালকা নিয়ন্ত্রণবিধি পালন করা যায় তাহলে ওমিক্রনের প্রভাব কমতে পারে।
কিন্তু পরিস্তিতি যেদিকে যাচ্ছে তা খুব একটা আশাব্যাঞ্জক নয়। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং বুস্টার ডোজ অত্যাবশ্যক, তবে এগুলি ওমিক্রন দমনে যথেষ্ট নাও হতে পারে।
সেই সঙ্গে ডাঃ রোজানা যোগ করেছেন, ”কেউই লকডাউন চান না, তবে ডেল্টার তুলনায় ওমিক্রনের উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সংক্রমণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলি রক্ষা করার জন্য শেষ অবলম্বন ব্যবস্থা অর্থাৎ লকডাউনের প্রয়োজন হতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য শুধুমাত্র মহামারীবিদ্যা নয়, এই ব্যবস্থাগুলির ব্যাপক সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
গবেষকদের দল অনুমান করছেন যে, ওমিক্রনের ওপর ভ্যাকসিনগুলির প্রভাব সেইমাত্রায় পড়ছে না এবং এটি বিদ্যমান ডেল্টা রূপের তুলনায় ১০-৩৫% পর্যন্ত বেশি সংক্রমণযোগ্য হতে পারে। শুধু তাই নয় কোনও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়াই আগামী পাঁচ মাসে ইংল্যান্ডে ২৫,০০০ থেকে ৭৫,০০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাই বার বার বলা হচ্ছে ওমিক্রন এই মাস শেষের আগেই ইংল্যান্ডে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে তারা বুস্টার ডোজ দ্বারা প্রদত্ত অতিরিক্ত সুরক্ষা বিবেচনায় নিয়েছেন।
বুস্টার ভ্যাকসিনগুলির খুব বেশি গ্রহণ করা হলে ছবিটি উন্নত করা যেতে পারে, এ বিষয়ে সব গবেষকরা মোটামুটিভাবে এক সিদ্ধান্তে এসেছেন। গবেষণার সহ-নেতৃত্বকারী CMMID-এর ডাঃ নিক ডেভিস বলেছেন: “এগুলি প্রাথমিক অনুমান, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ওমিক্রন ভ্যাকসিনকে এড়িয়ে ডেল্টার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে তবে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ওমিক্রন যুক্তরাজ্যের অর্ধেক ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করবে।” আরো বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে বুস্টার প্রোগ্রামটি অত্যাবশ্যক, কিন্তু যেখানে কোনও বুস্টার নেই সেখানে হাসপাতালে ভর্তির পরিমান পাঁচগুণ বেশি হতে পারে, বলছেন ডাঃ নিক ডেভিস।
ডাঃ ডেভিস আরও বলেছেন যে সর্বশেষ তথ্য জানাচ্ছে, ওমিক্রনের বৃদ্ধির হার খুব দ্রুত এবং এটি এমনভাবে ছড়াচ্ছে যা বেশ উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে কী সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন অস্ট্রিয়া এবং নেদারল্যান্ডস নতুন লকডাউন বা আংশিক লকডাউন ব্যবস্থার দিকে চলে গেছে। যদিও যুক্তরাজ্য সরকার লকডাউনের কথা এখনো জানাননি, পরিবর্তে মাস্ক ম্যান্ডেট পুনরায় চালু করছে এবং লোকেদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছে। গবেষণার ফলাফলের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, লিবারেল ডেমোক্র্যাট স্বাস্থ্যের মুখপাত্র ডেইজি কুপার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নতুন মডেল গড়ে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ইতিমধ্যেই ব্রেকিং পয়েন্টে চলে গেছে, তাই এখনই ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতালে আর রোগী ভর্তি করার জায়গা থাকবে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডেইজি কুপার। সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংসদে তার জরুরি পরিকল্পনা পেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে বলেছেন জরুরীভাবে বুস্টার প্রোগ্রাম বাড়াতে হবে, ফ্রন্টলাইন এনএইচএস কর্মীদের তাদের প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সংস্থান দিতে হবে, ছোট ব্যবসায়ীদের আর্থিক সুরক্ষার গ্যারান্টি দিতে হবে, যা এই কঠিন সময়ে তাদের মানসিক জোর বাড়িয়ে তোলায় সহায়ক হবে।




