বাংলাদেশকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ৪ মিলিয়নের বেশি ডোজ প্রদান যুক্তরাজ্যের
পোস্ট ডেস্ক :

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ৪ মিলিয়ন এর বেশি ডোজ বাংলাদেশকে প্রদান করেছে যুক্তরাজ্য। সোমবার বিকালে যুক্তরাজ্য থেকে এই ভ্যাকসিন এর প্রথম চালান পৌছেছে কোভ্যাক্স ভ্যাকসিন শেয়ারিং মেকানিজমের মাধ্যমে। করোনাভাইরাস অতিমারীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াই ও দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করতে যুক্তরাজ্যের এই ভ্যাকসিন অনুদান বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, এই বছরের G7 এ যুক্তরাজ্য জুন ২০২২ এর মধ্যে সারাবিশ্বে ১০০ মিলিয়ন করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন ডোজ দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়। বাংলাদেশকে প্রদানকৃত এই ভ্যাকসিন অনুদানটি G7 সম্মেলনের প্রতিশ্রুতির ফলস্বরূপ এসেছে। যুক্তরাজ্যের অনুদানের ভ্যাকসিন ডোজগুলির শতকরা ৮০ ভাগ কোভ্যাক্স সুবিধার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, “যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ৪ মিলিয়ন ডোজ আগমনকে আমরা স্বাগত জানাই। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ অতিমারীর কারণে কঠিন সময় পার করেছে। এই অতিমারী থেকে আরো উত্তম, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ভাবে উত্তরণে আমরা উভয়ই একসাথে কাজ করছি।
“বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের এই ভ্যাকসিন অনুদান দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান ব্রিট বাংলা বন্ধনের একটি শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। মানুষের জীবন বাঁচাতে ও অতিমারী মোকাবেলা করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য যা প্রয়োজন যুক্তরাজ্য তা অবশ্যই করবে।”
করোনাভাইরাস অতিমারী মোকাবেলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন প্রস্তুতে সহায়তা করার জন্য ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ সহ অন্যান্য কার্যক্রমে বিশ্বে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বব্যাপী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের অর্ধ বিলিয়নের বেশি ডোজ অলাভজনক মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে যাচ্ছে।
২০২০ সালে কোভ্যাক্স প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা শুরু করে যুক্তরাজ্য এবং বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে ভ্যাকসিনের চাহিদা মেটাতে মোট ৫৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করে। এই কোভ্যাক্স স্কিমটি ৮৩টি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ সহ ১৩৭টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ১৫২ মিলিয়নেরও বেশি ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহ করেছে। প্রাথমিক ভ্যাকসিনের শতকরা ৬৫ ভাগ ডোজ অক্সফোর্ড-অস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কোভ্যাক্স এর লক্ষ্য ২০২২ সালের প্রথম দিকে বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে ১.৮ বিলিয়ন ভ্যাকসিন সরবরাহ করা।
অতিরিক্ত তথ্য: যুক্তরাজ্য অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন প্রস্তুতের জন্য ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা প্রদান করেছে। প্রাথমিক গবেষণা ও উন্নয়নে ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড এবং ভ্যাকসিন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড এই সহায়তার এর আওতাভুক্ত। এই সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করেছে যে ভ্যাকসিনটি বিশ্বজুড়ে সাশ্রয়ী হওয়া উচিত। এর ফলস্বরূপ, অতিমারী চলাকালীন, অ্যাস্ট্রাজেনেকা অলাভজনক মূল্যে ভ্যাকসিন বিতরণ করতে সম্মত হয়েছে। এই ভ্যাকসিন অনুদানের অর্থায়ন করা হয়েছে ইউকে ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্সের (ওডিএ) মাধ্যমে। প্রয়োজন হলে এই অনুদানের জন্য যুক্তরাজ্যের মোট জাতীয় আয়ের ০.৫% এর ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা হবে।
কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় একটি সু-সমন্বিত জাতীয় কার্যপরিকল্পনা তৈরি করতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করছে এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন অংশীদার ও বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কর্মসূচিতে করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য সামগ্রিকভাবে প্রায় ২৪ মিলিয়ন পাউন্ড পরিমাণ যুক্তরাজ্যের সহায়তা অগ্রাধিকার স্বরূপ কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




