ব্রিটেনে দৈনিক সংক্রমণের রেকর্ড, শনাক্ত ৮৮,৩৭৬
পোস্ট ডেস্ক :

আবারো কোভিডের দৈনিক সংক্রমণের রেকর্ড ভাঙলো ব্রিটেনে। বৃহস্পতিবার দেশটিতে মোট ৮৮ হাজার ৩৭৬ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছে। যা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ কোভিড শনাক্তের রেকর্ড। দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ছে কোভিডের ভয়াবহ ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। এই ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় নানা বিধিনিষেধ জারি করেছে বৃটিশ সরকার। আশঙ্কা করা হচ্ছে দ্রুতই সমগ্র দেশে কোভিডের সবথেকে প্রভাবশালী ভ্যারিয়েন্টে পরিণত হবে ওমিক্রন। ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা প্রফেসর ক্রিস হুইটিও বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টটি অসম্ভব দ্রুত গতিতে ছড়াতে পারে। তবে বুস্টার ডোজের কারণে এর ভয়াবহতা অনেক কম হবে বলেও আশার বাণী দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ওমিক্রন আতঙ্ক থেকে বুস্টার ডোজ গ্রহণে আগ্রহ বাড়ছে বৃটিশদের। বুধবার দেশটিতে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। এটিই এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ বুস্টার ডোজ নেয়ার রেকর্ড। এর আগে বুধবারও একদিনে সর্বোচ্চ কোভিড সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছিল দেশটিতে। সেদিন ৭৮ হাজার ৬১০ জনের কোভিড শনাক্ত হয়। ব্রিটেনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড শনাক্তের সংখ্যা। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সেখানে ৫০ হাজার ৮৬৭ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছিল। সেখানে এ সপ্তাহের বৃহস্পতিবার কোভিড শনাক্ত হয়েছে আরো ৩০ হাজারের বেশি মানুষের।
প্রফেসর হুইটি মনে করেন, বুস্টার ডোজের কারণে আগের তুলনায় এবার তুলনামূলক দ্রুত সংক্রমণের ‘পিক’ চলে যাবে। যদিও ওমিক্রনের দ্রুত সংক্রমণের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তার বিশ্বাস, মানুষ বুস্টার ডোজ গ্রহণ করতে থাকলে এই ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার গতিও কমে আসবে। কমনস হেলথ এন্ড সোশ্যাল কেয়ার কমিটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক আলোচনার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
ক্রিস হুইটি বৃহস্পতিবার বলেছেন, কোভিড রোগী বেড়ে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বাড়ছে। ওমিক্রন এতটাই সংক্রামক যে, এটি করোনাভাইরাসের অন্যান্য ধরনের তুলনায় মৃদু বলে প্রমাণিত হলেও এই ধরনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালগুলোতে বেড়ে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ৮৪৯ জন ভর্তি হয়েছে বলে জানান ক্রিস।
ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির প্রধান মেডিকেল উপদেষ্টা ড. সুসান হপকিনস এমপিদের বলেন, বর্তমানে ওমিক্রনে আক্রান্ত মাত্র ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। যদিও প্রফেসর হুইটি মনে করেন আসল সংখ্যা আরও অনেক বেশি। হপকিনস আরও জানান, ওমিক্রন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে অন্তত আরো দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। নিউ ইয়ারের আগে এ বিষয়ে ভরসাযোগ্য তথ্য ও বিশ্লেষণ চলে আসবে। চ্যান্সেলর রিশি সুনাক বলেন, স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি কঠিন সময় চলছে। তবে এর আগে ব্রিটেনে যে কঠিন সময় পার করেছে সে তুলনায় এটি ভিন্ন। এদিকে ক্রমাগত পরিস্থিতি খারাপ হলেও লকডাউন জারি করা হবে না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, আমি জনগণকে বড়দিনের আয়োজন বাতিল করতে বলছি না। কিন্তু সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।




