চীনে করোনা নিয়ে রিপোর্ট: সাংবাদিক ঝাং মারা যেতে পারেন কারাগারেই
পোস্ট ডেস্ক :

চীনের উহানে করোনাভাইরাস নিয়ে রিপোর্ট করা সিটিজেন জার্নালিস্ট ঝাং ঝান সারা বিশ্বের কাছেই এখন পরিচিত এক নাম। গত বছরের মে মাস থেকে দেশটির কারাগারে আটক ঝাং এ বছর রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স কর্তৃক সাহসী সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ‘প্রেস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।
নেটওয়ার্ক অব চাইনিজ হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স (সিএইচআরডি) জানায়, অন্য যেসব নিরপেক্ষ সাংবাদিককে চীনে আটক রাখা হয়েছে, ঝাং সেসব নিয়েও রিপোর্ট করেছিলেন। তিনি ভুক্তভোগীদের পরিবারকে হয়রানি করা নিয়েও রিপোর্ট করেছিলেন।
সিএইচআরডি জানায়, উহান থেকে ১৪ই মে নিখোঁজ হন ঝাং ঝান। এর একদিন পর কমপক্ষে ৪০০ মাইল দূরের শহর সাংহাইয়ের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানানো হয়। ১৯ শে জুন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সাংহাইয়ে। এর তিন মাস পর ৯ই সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে দেয়া হয় তার আইনজীবীকে।
‘অকারণে বিবাদ ও অশান্তি সৃষ্টির’ দায়ে ডিসেম্বর মাসে ঝাংকে চার বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়৷ এর প্রতিবাদে ঝাং অনশনে বসেন, যা এখনও চলছে৷ অভিযোগ রয়েছে- কারাগারে তাকে পেটের ভেতর নল ঢুকিয়ে জোর করে খাওয়ানো হয়৷ ওই নল যাতে তিনি বের করতে না পারেন, সে জন্য তার হাত-পা সবসময় বেঁধে রাখা হয়৷
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী নারী সাংবাদিক ঝাং ঝান আগে ছিলেন আইনজীবী। আইনের পেশা ছেড়েই তিনি সাংবাদিকতার জগতে আসেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে আশংকা করা হয়েছে, কারাগারে ঝাং মারা যেতে পারেন “তিনি কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক এবং ভাষ্যকারদের একজন যারা একেবারে শুরুর দিকে চীনা কর্তৃপক্ষকে ভাইরাসের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ হতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন এবং মহামারীটির খবর গোপন রাখার চেষ্টারত কর্মকর্তাদের দ্বারা নীরব হয়েছিলেন। যদিও এরপর অনেককেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ঝাং এখনো কারাগারে রয়েছেন। তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমর্থকরা আশঙ্কা করছেন যে তিনি এর প্রতিবাদে যে অনশন করছেন তাতে তিনি মারা যেতে পারেন।”
এদিকে, ঝাংয়ের ভাই ঝাং জু গত অক্টোবরে এক টুইটে জানান যে, তার বোনের ওজন এখন ৯০ পাউন্ডেরও কম। তিনি আসন্ন শীতে ঠান্ডায় বাঁচবেন না।
ঝাংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবাদের মুখে বৃটেনের চীনা দূতাবাস অবশ্য বলেছে যে, কারাগারে কয়েদিদের স্বাস্থ্যের প্রতি গভীর মনোযোগ দেওয়া হয় এবং তাদের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার “পুরোপুরি নিশ্চিত” করা হয়। তবে, দোষী হলে তাকেতো শাস্তি পেতেই হবে।
এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়- যদি তিনি (ঝাং) মারা যান, তাহলে তিনি-ই প্রথম কোন চীনা ভিন্নমতাবলম্বী হবেন না যিনি জেল হেফাজতে মারা গেলেন; অন্যদের মধ্যে গণতন্ত্রপন্থী আইকন এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী লিও জিয়াওবো রয়েছেন যিনি ১১ বছরের কারাবাসকালে ২০১৭ সালে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন।




