দিল্লি কোর্টে বিস্ফোরক পেতে রাখা বিজ্ঞানীর আত্মহত্যার চেষ্টা
পোস্ট ডেস্ক :

দিল্লির একটি আদালতে বিস্ফোরক পেতে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা ডিফেন্স রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) গ্রেপ্তারকৃত সিনিয়র বিজ্ঞানী ভারত ভূষণ কাটারিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বমি করেছেন। পেটে ব্যথা দেখা দিয়েছে তার। এ জন্য তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশের সূত্রগুলো বলেছে, তিনি পুলিশ হেফাজতে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন।
পুলিশের সিনিয়র এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা পিটিআই বলেছে, চিকিৎসকরা বলেছেন- কাটারিয়া তরল হ্যান্ডওয়াশ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি পেটে ব্যথার অভিযোগ তোলার পর একজন বিচারক তাকে দু’দিনের বিচার বিভাগীয় কাস্টডিতে পাঠান এবং তাকে এআইআইএমএস-এ ভর্তি করানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগ আছে, প্রতিপক্ষ ও প্রতিবেশী আইনজীবী অমিত বশিষ্ঠকে টার্গেট করে দিল্লির রোহিনি কোর্ট চত্বরে বিস্ফোরক পেতে রাখা হয়েছিল।
এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন ডিআরডিওর সিনিয়র বিজ্ঞানী ভারত ভূষণ কাটারিয়া। এ অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অমিতের সঙ্গে তার পুরনো দ্বন্দ্ব ছিল। এজন্য একে অন্যের বিরুদ্ধে অনেক মামলা করেছেন। এর মধ্যে একটি মামলা করা হয়েছে পানি সরবরাহ নিয়ে।
শুক্রবার দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কাটারিয়াকে। এদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই তিনি পুলিশি হেফাজতে ছিলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল। পিটিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাটারিয়াকে শনিবার রাতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তিনি বমি করেন। বলেন, তার পেতে ব্যথা।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সদস্যরা তাকে পরীক্ষা করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি জানান কিছু সেবন করেননি। কিন্তু ডাক্তাররা বলেছেন, তিনি হ্যান্ডওয়াশ পান করেছেন।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্তে সহযোগিতা করছেন না কাটারিয়া। প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করছেন। তাদেরকে ভুল তথ্য দিচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়ে যেতে সব রকম উপায় ব্যবহার করছেন।
উল্লেখ্য, ৯ই ডিসেম্বর কোর্টরুমে কম তীব্রতা সম্পন্ন বিস্ফোরক পেতে রাখেন বিজ্ঞানী কাটারিয়া। এতে নায়েব কোর্ট প্রধান কনস্টেবল রাজিব আহত হন। পুলিশ বলেছে, ওই বিস্ফোরকে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। তবে তাতে যথাযথ পরিমাণ উপাদান মিশানো হয়নি। ফলে শুধু ডেটোনেটর বিস্ফোরিত হয়েছে। এই বিস্ফোরণ অনেক তীব্র হতে পারতো এবং সবাইকে উড়িয়ে দিতে পারতো।
এদিন আদালতে একজন আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধরে প্রবেশ করেন কাটারিয়া এবং বিস্ফোরণের পর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিভাবে তিনি আদালতকক্ষে বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন এবং তা পেতে রাখেন তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।




