মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় মৃত ১৪
পোস্ট ডেস্ক :

মাত্র ২৪ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় মালয়েশিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা হয়ে গেল পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা দেশটিতে। এ পর্যন্ত ১৪ জন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ৩ দিন ধরে বন্যার পানি অধিকাংশ প্রদেশ থেকে সরে গেছে। তবে কিছু অঞ্চলের জলাবদ্ধতা এখনো কমেনি। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় এ সময় পানিবন্দি হয়ে পড়া বন্যাকবলিত প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম। গতকাল বিকাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার তথ্যে জানা গেছে, ১৭ই ডিসেম্বরের বন্যায় দেশটির ১৩টি প্রদেশের মধ্যে ৯টি প্রদেশেই বিপজ্জনক বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। রাস্তা ঘাট ও স্থাপনা প্লাবিত হয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হয়। ভেঙে পড়েছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
তবে এখন বেশ কয়েকটি প্রদেশ থেকে বন্যার পানি সরে গেলেও কিছু প্রদেশে এখনো পানি সরেনি তবে সব অঞ্চলেই ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পাহাং প্রদেশের পানি এখনো না সরায় লোকজন তাদের বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না। অন্য প্রদেশের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কুয়ালালামপুর ও সেলেঙ্গর প্রদেশে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন দ্রুত পুনর্বাসন করার জন্য। নইলে মহামারির কারণে জিডিপিতে যেভাবে ধস নেমেছিল বন্যার ক্ষতির কারণেও এমন ক্ষতি হতে পারে।
সমুদ্র ঘেরা এবং পাহাড় ও বনে ভরা দেশটিতে বড় কোনো নদী নেই তাই কোনো সময় বন্যা হয় না।
বিভিন্ন রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর বন্যা দুর্গতদের জন্য কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দ নিয়ে এসেছে। আজ বন্যা পরিস্থিতির তাদের তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে।
এদিকে গরম আবহাওয়া বইছে যা কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি হ্রাস পেতে শুরু করেছে। তবে দুঃখজনক সংবাদ হলো সাম্প্রতিক বন্যায় মৃতদের লাশের হিসাব বাড়তে শুরু করেছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সেলাঙ্গর রাজ্যে ৮টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে, পাহাং-এ নিহতের সংখ্যা ছিল ছয়জন এবং বেন্টং বন্যায় আরও চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।




