অস্ট্রেলিয়ার পুরনো পার্লামেন্ট ভবনে আগুন

Published: 30 December 2021

পোস্ট ডেস্ক :


অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় অবস্থিত পুরনো পার্লামেন্ট ভবনে (ওল্ড পার্লামেন্ট হাউজ) আজ বৃহস্পতিবার আগুন ধরিয়ে দিয়েছে আদিবাসী বিক্ষোভকারীরা। এতে ওই ভবনের সামনের বেশ কিছু দরজা পুড়ে গেছে। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কেউ হতাহত হননি। আদিবাসীদের সার্বভৌমত্বের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা এই আগুন ধরিয়ে দেয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, ওই ভবনের সামনে প্রায় পক্ষকাল ধরে অবস্থান করছিলেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু বিক্ষোভ থেকে এমন সহিংসতা অস্ট্রেলিয়ায় বিরল। বৃহস্পতিবার সকালে ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর অগ্নিনির্বাপকরা দ্রুততার সঙ্গে এর ভিতরে থাকা কর্মীদের বের করে নেন।

বর্তমানে ওই পার্লামেন্ট ভবনের নামকরণ করা হয়েছে মিউজিয়াম অব অস্ট্রেলিয়ান ডেমোক্রেসি।
এর সামনে আদিবাসী বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট শুরু করলে ২০শে ডিসেম্বর এর দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়।
আদিবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, তারা সাবেক এই পার্লামেন্ট ভবনের সামনের লনে ‘অ্যাবোরিজিনাল টেন্ট এম্বাসি’ স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে বিক্ষোভ করছিলেন। এই টেন্ট এম্বাসি হলো তাদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ জানানোর একটি স্থান। এখান থেকেই আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিয়ে জাতীয় আলোচনা শুরু হয়েছিল। ১৯৯২ সাল থেকেই ওল্ড পার্লামেন্ট হাউজের বাইরের লন একটি স্থায়ী ব্যবস্থাপনা হয়ে আছে তাদের জন্য। তবে তারা সব সময় তা দখল করে রাখেনি। সম্প্রতি সেখানে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটোরি (এসিটি) পুলিশ।

১৯৮৮ সালে এই ভবন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট। এখান থেকে অল্প দূরত্বে নতুন একটি ভবনে নতুন পার্লামেন্টের নাম দেয়া হয়েছে ক্যাপিটাল হিল। অন্যদিকে পুরনো পার্লামেন্ট ভবনটি জাতীয় জাদুঘর এবং জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে।

সেখানে বৃহস্পতিবারের এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা। তাদের অনেকে এ হামলাকে গণতন্ত্রের ওপর হামলা বলে আখ্যায়িত করেছেন। উপপ্রধানমন্ত্রী বারনাবি জয়সে টুইটে বলেছেন, ভবনে আগুন দেয়া কোনো আইনসিদ্ধ প্রতিবাদ হতে পারে না। এটা অপরাধ। ভয়ঙ্কর এক অপরাধ। তার পূর্বসুরী ও বর্তমান এমপি মাইকেল ম্যাককরম্যাক বলেছেন, ওল্ড পার্লামেন্ট ভবনে বিক্ষোভকারীরা আগুন দিয়ে চিৎকার করে বলেছে, একে পুড়ে যেতে দাও। পুড়তে দাও। কি নিন্দনীয় বিষয় ভাবুন। এটা আমাদের গণতন্ত্র, ইতিহাস এবং সার্বভৌমত্বের ওপর ভয়াবহ এক হামলা।