ফ্রান্সে আবিষ্কৃত কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বিজ্ঞানীরা

Published: 7 January 2022

পোস্ট ডেস্ক :


ফ্রান্সে শনাক্ত হওয়া কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বিজ্ঞানীরা। গত সপ্তাহে বি.১.৬৪০.২ নামের ওই ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়। এখন পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি মানুষ এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ইসরাইলের বার ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও গবেষক সিরিলি কোহেন বলেন, এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি চিন্তিত নই। আমরা এর আগেও এ ধরণের অনেক ভ্যারিয়েন্ট দেখেছি। দুই মাস আগেও প্রায় একই রকম ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছিল ফ্রান্সে। বি.১.৬৪০ নামের ওই ভ্যারিয়েন্টে ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছিল সেসময়।

ওই ভ্যারিয়েন্টে যতগুলো মিউটেশন শনাক্ত হয়েছিল, নতুন ভ্যারিয়েন্টেও একই সংখ্যক মিউটেশন শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এই ভ্যারিয়েন্টগুলো ডেল্টা বা ওমিক্রনের মতো শক্তিশালী নয়।
ভাইরাস ক্রমাগত বিবর্তিত হতে থাকে। সাধারণত এ ধরণের মিউটেশন কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করে না। তবে অনেকগুলো মিউটেশনের কারণে নতুন ভ্যারিয়েন্ট সৃষ্টি হতে পারে। মিউটেশনের কারণে ভাইরাসের চরিত্র বদলে যায়। কোভিডের ভাইরাসের ক্ষেত্রে এর প্রধান প্রোটিন হচ্ছে স্পাইক প্রোটিন। এটি ভাইরাসের বাইরের আবরণে অবস্থান করে। এর মাধ্যমেই মূলত ভাইরাসটি মানবদেহে সংক্রমিত হয়। ফ্রান্সে নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে তাতে ৪৫টি মিউটেশন শনাক্ত হয়েছে। তবে এরমধ্যে মাত্র ৯টি স্পাইক প্রোটিনে। অপরদিকে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে মিউটেশন হয়েছে ৫০টি। এরমধ্যে ৩৫টিই হয়েছে এর স্পাইক প্রোটিনে।

কোহেন বলেন, আমরা যখন নতুন এই ফরাসি ভ্যারিয়েন্টের মিউটেশনগুলো দেখি, আমরা বুঝতে পারি এই ধরণের মিউটেশন একেবারেই সাধারণ বিষয়। নতুন ভ্যারিয়েন্ট থেকে জানার তেমন কিছুই নেই। এই ভ্যারিয়েন্টগুলো আফ্রিকা থেকে আসছে বলেও জানান কোহেন। তার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলোতে যেরকম ভাইরাসের জিনেটিক সিকুয়েন্স করা হয়, আফ্রিকার দেশগুলোতে তা হয়না। তাই এ ধরণের সাধারণ ভ্যারিয়েন্ট কোথাও না কোথাও তৈরি হচ্ছেই। যেসব অঞ্চলে বেশীরভাগ মানুষ এখনো ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি, সেসব অঞ্চলে নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট সৃষ্টির সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। এ কারণে যত বেশি সম্ভব মানুষদের ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসবেই। আমাদের উচিৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করা। তবে এসব ভ্যারিয়েন্ট আসবে এবং দ্রুতই চলেও যাবে। এগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এখন আতঙ্কিত হওয়া উচিৎ ওমিক্রনের বিবর্তন নিয়ে। এমনিতেই এই ভ্যারিয়েন্ট অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় দ্রুত ছড়াচ্ছে। কিন্তু আমাদের যদি সামনে ‘ওমিক্রন প্লাসের’ সঙ্গে যুদ্ধে নামতে হয় তখন কেমন হবে?