‘থানায় নিয়ে পুলিশ পোশাক খুলতে বাধ্য করে’

Published: 12 January 2022

পোস্ট ডেস্ক :


ভারতের ত্রিপুরায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন অপরিণত উভলিঙ্গের (ট্রান্সজেন্ডার) একজন ব্যক্তি। অভিযোগে তিনি বলেছেন, আগরতলায় তাদের চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ স্টেশনে। সেখানে জোর করে তাদেরকে নগ্ন করা হয় লিঙ্গগত অবস্থা প্রমাণ দিতে। এতে অভিযোগকারী বলেছেন, তারা কখনো অশ্লীল পোশাক পরেননি। এমন পোশাকে তাদেরকে দেখা গেলে, যেন গ্রেপ্তার করা হয়। এ খবর দিয়েছে ভারতের সরকারি সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

শনিবার রাতে ওই চার উভলিঙ্গের ব্যক্তি একটি হোটেলে পার্টি করে বের হন। এ সময় তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অবশেষে সোমবার তাদের একজন অভিযোগে বলেন, তাদেরকে থানায় নিয়ে জোর করে নগ্ন করা হয়েছে। প্রমাণ করতে হয়েছে যে, তারা উভলিঙ্গের। এরপরেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই ঘটনার সময় পুলিশের সঙ্গে একজন ফটোসাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন।

উভলিঙ্গের ওই ব্যক্তি অভিযোগে বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম আগরতলা ওমেন্স পুলিশ স্টেশনে। সেখানেই পুরুষ ও নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদেরকে নগ্ন হতে বাধ্য করা হয়। তার ভাষায়, পুলিশ স্টেশনে নেয়ার পর আমাদেরকে পোশাক ছাড়তে বলা হয়। আমাদের লিঙ্গগত অবস্থা উন্মুক্ত করে তাদের দেখাতে বলা হয়। বিষয়টি ভয়াবহ বিব্রতকর। এ সময় পুলিশ আমাদের সব জিনিসপত্র নিয়ে নেয়। অন্তর্বাস নিয়ে নেয়। তবে কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পুরোপুরি মিথ্যা।

এলজিবিটি সম্প্রদায়ের এই চার সদস্যের দাবি, এর মধ্য দিয়ে তাদের গোপনীয়তার অধিকারকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই অধিকার তাদেরকে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট উভলিঙ্গের মানুষদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্য মানুষের মতোই তাদেরকে দেয়া হয়েছে সাংাবিধানিক অধিকার। তা যেমন একজন নারী বা পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ঠিক একইভাবে একজন উভলিঙ্গের মানুষের জন্যও প্রযোজ্য।

অভিযোগকারী বলেছেন, হোটেল থেকেই তাদেরকে অনুসরণ করেছেন ওই ফটোসাংবাদিক এবং তিনি তাদেরকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেছেন। হোটেলে তাদের সঙ্গে তিনি নাচতে চেয়েছেন। এফআইআরে বলা হয়েছে- আমরা তাকে বিনোদন দিইনি। তাই তিনি পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত আমাদের পিছু নিয়েছিলেন। আমাদেরকে মেলারমাঠ এলাকায় ধরিয়ে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ওই হোটেল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মেলারমাঠ। এ ইস্যুতে মন্তব্য করার জন্য পশ্চিম আগরতলা পুলিশ স্টেশনে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ত্রিপুরা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অপরাধী কে তা শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।