পাকিস্তানের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১১,৭৮৫ জন, স্বতন্ত্র ১১,৭৮৫

Published: 22 January 2024

পোস্ট ডেস্ক :


আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন। এতে মোট ১৭ হাজার ৮১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রোববার নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে কমপক্ষে ১১ হাজার ৭৮৫ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে নিজ নিজ দলীয় ব্যানারে নির্বাচন করছেন ৬ হাজার ৩১ জন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আচরণবিধি প্রকাশ করেছে। এখন দেখার বিষয় তা কতটুকু মেনে চলেন তারা। নির্বাচনের আরও বাকি আছে প্রায় ১৫ দিন। এরই মধ্যে দিন যত যাচ্ছে প্রার্থীদের মধ্যে ততই বাকযুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। একজন তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করছেন তীব্র কড়া ভাষায়।

বিভিন্ন কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, চৌধুরী সুজ্জাত হোসেন এবং আসফান্দিয়ার ওয়ালি সহ প্রথম সারির কিছু নেতা নির্বাচনে নেই। তবে কিছু আসনে তীব্র তিক্ত এবং কঠিন লড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনে নিজেদের দলীয় প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট বাতিল করার পর সাবেক ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তাদের প্রতিজনকে দেয়া হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক। পাকিস্তানের রাজনীতিতে এ সময়ে বহুল আলোচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) প্রধান নওয়াজ শরীফ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় পরিষদের ১৫ নম্বর আসন মানসেহরা এবং ১৩০ নম্বর লাহোর আসনে। লাহোরে তাকে মুখোমুখি হতে হবে পিটিআইয়ের নেতা ড. ইয়াসমিন রশিদের। সেখানে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে কঠোর লড়াই হতে পারে।
নওয়াজ শরীফের ভাই এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পরিষদের ১২৩ নম্বর কাসুর এবং ১৩২ নম্বর লাহোর আসনে। প্রাদেশিক পরিষদের রাজধানীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর বর্ষীয়ান প্রার্থী লিয়াকত বেলুচ। পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সহসভাপতি আসিফ আলি জারদারি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পরিষদের ২০৭ নম্বর আসন তার নিজের এলাকা শহীদ বেনাজিরাবাদ থেকে। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিটিআই সমর্থিত শের মুহাম্মদ রিন্ড বেলুচ। বেলুচ সেখানে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
জারদারি ছেলে, পিপিপির চেয়ারম্যান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি জাতীয় সংসদের তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি প্রার্থী হয়েছেন পাঞ্জাবে জাতীয় পরিষদের ১২৭ নম্বর আসনে। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএলএনের আতাউল্লাহ তারার। এ ছাড়া জাতীয় পরিষদে লারকানা ১৯৪ নম্বর আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিাতা করছেন। সেখানে তাকে মোকাবিলা করতে হবে জমিয়তে উলেমায়ে ইসলাম ফজলের (জেইউআইএফ) মাওলানা রশিদ মাহমুদ সুমরু ও সিনেটর সাউফুল্লাহ আবরুর সঙ্গে। অন্যদিকে কাম্বার শাহদাদকোট ১৯৬ নম্বর আসনে তাকে মোকাবিলা করতে হবে পিটিআই সমর্থিত হাবিবুল্লাহকে।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হামজা শেহবাজ জাতীয় পরিষদের ১১৮ নম্বর আসন থেকে পিএমএলএনের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাকে মোকাবিলা করতে হবে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আলিয়া হামজার। অন্যদিকে মরিয়ম নওয়াজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পরিষদের ১১৯ আসনে। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিটিআইয়ের সমর্থনপুষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাদ ফারুক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সিনেটর ইউসুফ রাজা গিলানি নির্বাচন করবেন জাতীয় পরিষদের ১৪৮ নম্বর মুলতানের আসন থেকে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিটিআইয়ের স্বতন্ত্রপ্রার্থী ব্যারিস্টার তৈমুর মালিক এবং পিএমএলএনের আহমেদ হোসেন।