বিশ্বব্যাপী স্পাইওয়্যার শিল্প নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

Published: 6 February 2024

পোস্ট ডেস্ক :


বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যারের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপের ফলে ভারত ও ইসরাইলের মতো মার্কিন মিত্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জো বাইডেন প্রশাসন সামরিক গ্রেডের স্পাইওয়্যারের বিস্তার রোধে এই প্রথম এত বিস্তৃত পদক্ষেপ নিলো। অভিযোগ রয়েছে, এই স্পাইওয়্যারগুলির অপব্যবহারে যুক্ত রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। সরকারগুলো শত শত রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার করেছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্পাইওয়্যারের এমন ব্যবহারকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে বাইডেন প্রশাসন। প্রায় তিন বছর আগে ইসরাইলের এনএসও গ্রুপকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে মার্কিন সরকারের নিজস্ব বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারও নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশ জারি করা হয় সেসময়। বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার তৈরিতে বিশ্বে সবার থেকে এগিয়ে আছে ইসরাইল। ফলে মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এমন কঠোর অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ক্ষত সৃষ্টি করে।

সোমবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে স্পাইওয়্যারের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব দেশ স্পাইওয়্যারের অব্যবহার করে নাগরিকদের নির্বিচারে আটক, জোরপূর্বক গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় জড়িত- সেসব ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতি আরও বলা হয়, বিশেষ করে যারা স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করে দমনপীড়ন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ সীমিত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত এবং বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যারের অপব্যবহার করে নাগরিকদের গোপনীয়তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং ভিন্নমতাবলম্বী হুমকির মুখে ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন বলেন, যারা বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যারের অপব্যবহার করে- সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং অন্যান্যদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে তাদের নির্বিচারে আটক, হয়রানি এবং বেআইনিভাবে নজরদারি করছে, দমন বা ভয় দেখানোর মতো ঘটনায় জড়িত, সেসব ব্যক্তি ও তাদের নিকটবর্তী পরিবারের সদস্যদের এই ভিসানীতির আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।