এতো গরম, কী হলো সোনার বাংলায়?

Published: 27 April 2024

বাংলার ঘরে বাইরে, জনজীবনের নিত্যদিনের চিত্রে যত্নে বোনা নকশিকাঁথায় গরমের দৃশ্য বড় আকারে থাকাটা স্বাবাভিক। কেননা আমাদের ছয় ঋতুর বাংলায় গ্রীষ্মের মাত্রাটা বেশি, এটাই বাস্তব। কিন্তু রূপসী বাংলার মোহন চিত্রে এটা কোনো দাগ ফেলে না। অন্তত পক্ষে আগে এমন ছিল না। সুরেলা কোয়েলের ডাকেই ধ্বনিত হয় গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা। বাংলার ঘরে গরম আদরণীয় ঘরণীই ছিল, আমাদের চিরসাথী গ্রীষ্মের গরম এতটা নির্দয় ছিল না, যা এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। গ্রীষ্ম আসতে না আসতেই এতো টিন ফাঁটা গরম। কি যে হলো সোনার বাংলায়?

 

মাঝে মাঝে আগে যদি গরমটা একটু বেশি হয়ে যেত, কাল বিলম্ব না করে ঈশানকোণে বাদল-কলসি উতলে অঝোরে বারি ঝরতো। সেদিন কোথায় গেলো, কি হলো সোনার বাংলায়? তা তো আর শতবর্ষ পুরানো নয়। যখন অভিমানের আগুন ক্ষণিকেই মুছে যেত। খরা জ্বলতে না জ্বলতে দখিনার ঠান্ডা হাওয়ায় শীতলপাটি ভেসে আসতো। সুদূর নীলাম্বরে একফালি সোনালী রোদেলা ললাটের একটি অলক, পাতা হয়ে ঝরে পড়তো বটছায়ায়। কোয়েল, দোয়েল আর পাপিয়ারা যেন তাল মিলাতো বীথি কুঞ্জ আর কৃষ্ণচূড়ায়। কিষানের বাসুরি শুনে কদমতলায়।

এখন কি আর এমন হয়? এখন তো আমরা দেশ জুড়ে বৃষ্টির জন্য হাত তুলে প্রার্থনা করছি, আবার অতি বৃষ্টি কমানোর জন্যও দোয়া করি। আমাদের ঐ হাতগুলো পাপে না পুণ্যে ভারে ভারী তা আমরা ভালো জানি। তাহলে জানিনাটা কী? বাংলায় শুধু রাজনীতির রাজপথ দুর্নীতির কাঁটায় বিদ্ধ নয়। সেটা বিদ্যমান ঘরে বাইরে।

 

আমাদের দো’য়া যদি কবুল না হল, আমাদেরকে তা বুঝতে হবে, কারণ খুঁজে বের করতে হবে, সংশোধন করতে হবে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা তওবাকারীকে এবং সৎকর্মীকে ভালোবাসেন। তাঁদের দোয়া কবুল করেন। তাই আমরা পারি, সচেষ্ট হলে পারবো গড়িতে সোনার বাংলা, ইনশাহআল্লাহ।