ইভিএম কারচুপি নিয়ে মমতার সতর্কতা
পোস্ট ডেস্ক :

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আর ৪৮ ঘন্টা বাকি। তার আগে দুই প্রতিপক্ষ বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জঙ্গলমহলসহ দক্ষিণ বঙ্গে চারটি সভা করে গিয়েছেন। সোমবার সেখানে সভা করে তোপ লাগতে গিয়ে ভুলভাল উদ্ধৃতি দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আর উত্তর বঙ্গে বিজেপির হয়ে শেষ প্রচারে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মমতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুলি চালনার হুমকি দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে বড় হাতিয়ার করতে চেয়েছে বিজেপি। আর তাই সোমবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব হন। এরই সঙ্গে তিনি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দেন। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে নিতিন নবীন বলেন, যাদের এই বাংলায় অধিকার আছে, তারাই অধিকার পাবেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার জেলার প্রচার শেষে কলকাতায়
প্রচার শুরু করে সকলকে বিজেপি সম্পর্কে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন।বাংলাদেশ সংবাদ
মমতা এদিন কেন্দ্রীয় এজেন্সি নিয়েও সরব হন । তিনি বলেন, ওদের সব এজেন্সির ক্ষমতা বড়, না মানুষের ক্ষমতা বড় আমিও দেখতে চাই। বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা আরও বলেন, বাংলার উপর যে অত্যাচার করেছ, গণতান্ত্রিক ভাবে তার বদলা তো নেবই! ভোটের বাক্সে বদলা হবে।
দলের কর্মীদের ফের ইভিএম পাহারার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ, ভোটের পর ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী সেগুলি বদলে দিতে পারে। এই বিষয়ে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইভিএম লুট করার। আমাদের কাছে খবর আসছে। গণনার মেশিনে যারা ভোট গুনতে যাবেন, তারা বিষয়টি নজরে রাখবেন। কেউ ১০০ পেলে ওরা কম্পিউটারে তুলবে পাঁচ। দেখে নেবেন। যত ক্ষণ কম্পিউটারে ভোট না তোলা হবে, কেউ হাল ছাড়বেন না। লড়ে যাবেন। যুদ্ধ জয় করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহারাষ্ট্র, বিহারে ইভিএমে কারচুপি করে এবং বাইরে থেকে লোক নিয়ে ভোট দিইয়ে বিজেপি জিতেছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রে জোর করে জিতেছে, ইভিএমে কারিকুরি করেছে! বিহারেও একই কাজ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলের রেকর্ডের দিকে ইঙ্গিত করে নারী আসন সংরক্ষণ নিয়ে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তোলা মোদির অভিযোগগুলি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অনলাইনে একটি পোস্টে তিনি বলেন, “সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভা উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের অনুপাত সর্বোচ্চ। লোকসভায় আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৩৭.৯% নারী। রাজ্যসভায় আমরা ৪৬% নারী সদস্যকে মনোনীত করেছি।
পশ্চিমবঙ্গে ২৩শে এপ্রিল এবং ২৯শে এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ৪ঠা মে ভোট গণনার দিন ধার্য করা হয়েছে।




