ভোল পাল্টালো সৌদি আরব-কুয়েত
পোস্ট ডেস্ক :

নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটলো সৌদি আরব ও কুয়েত। দেশ দুইটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে নিজেদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল তা প্রত্যাহার করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সৌদি ও কুয়েতের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে তার স্থগিত করা প্রজেক্ট ফ্রিডম ফের চালু করছে।
দুইজন মার্কিন ও সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন চলতি সপ্তাহের শুরুতেই প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরু করতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্তত আপাতত বছরের পর বছর ধরে চলা সৌদি-মার্কিন সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য ফাটলের অবসান ঘটলো।
সৌদি কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, হরমুজ প্রণালিতে প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পারস্য উপসাগরে ইরানের হামলাকে লঘু করে দেখছে। এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ক্রমবর্ধমান লড়াইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেবে না। এর ফলে দেশ দুইটি তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিক কারণে আঞ্চলিক অংশীদারদের সীমান্ত বরাবর আকাশসীমা ব্যবহার করার জন্য তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে এর কোনো বিকল্প নেই। বিমান ঘাঁটি স্থাপনের জন্য সৌদি ও জর্ডান, আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য কুয়েত এবং আকাশসীমা ব্যবহার ও নৌ রসদ উভয় ক্ষেত্রেই ওমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন ও সৌদি কর্মকর্তাদের মতে, বিমান ঘাঁটি ও আকাশপথ খুলে দেয়ায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে থাকা বাধা দূর হবে। প্রণালিটি পুনরায় চালু করার মার্কিন প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যাপকভাবে একটি বিশাল বিমানবহরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল।
এ কারণেই এই অভিযানের জন্য সৌদি আরব ও কুয়েতের বিমানঘাঁটি ও আকাশসীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এরপর গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি খুলেনি। এতে শত শত জাহাজ আটকে আছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
পরবর্তীতে এসব আটকে থাকা জাহাজ পাহারা দিয়ে চলাচলে সহায়তা করার জন্য গত ৩ মে প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে অভিযানের ঘোষণা দেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে একদিন পরেই এই সিদ্ধান্ত থেকে আকস্মিক পিছু হটেন। এনবিসির নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব ও কুয়েতের কারণে ভেস্তে যায় ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম।
খবরে বলা হয়, সৌদি তাদের আকাশসীমা দিয়ে মার্কিন বিমান ওড়ার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ছাড়া রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি পেতেও ব্যর্থ হয় ট্রাম্প। একই সঙ্গে কুয়েতও তাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
তবে শেষমেশ দেশ দুইটি তাদের এই অবস্থান থেকে সরে আসলো এবং যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে যে তারা শিগগির প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরু করছে।




