সুনামগঞ্জে রাতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, এমপিসহ আহত ৫০
পোস্ট ডেস্ক :

সুনামগঞ্জের ছাতকে জাউয়া বাজারে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রাতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দফায় দফায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের সিলেট ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুলও সামান্য আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক উপজেলার খিদ্রাকাপন গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আখলুছ মিয়ার একটি জমি প্রায় এক বছর আগে জাউয়া কোনাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী বংকু ক্রয় করেন। তবে জমিটি এখনও রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে প্রথমে বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে আখলুছ মিয়ার লোকজন জাউয়া বাজারে মোহাম্মদ আলী বংকুর ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার রাতেই দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুক্রবার সন্ধ্যায় আগের ঘটনার জের ধরে জাউয়া কোনাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী বংকুর সমর্থকরা আখলুছ আলী পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। শুক্রবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।
সংঘর্ষের সময় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ আসার পথে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে তিনি সামান্য আহত হন।
ছাতক থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল জানান, সিলেট থেকে কাজ শেষে সুনামগঞ্জ আসার পথে ভয়াবহ সংঘর্ষ দেখতে পান। পরে তিনি গাড়ি থেকে নেমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করার সময় হাতে ও পায়ে কিছুটা আঘাত পেয়েছেন। তিনি সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং এখন সুস্থ আছেন।




