অবরোধেও ৪ মাস টিকবে তেহরান
পোস্ট ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতে টিকে থাকার লড়াইয়ে নিজেদের সক্ষমতা দেখাচ্ছে তেহরান। ইরানের সকল প্রকার সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলে তীব্র অবরোধ জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবুও দেশটি নিজেদের অর্থনীতিকে চালিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অবরোধ ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছে না। তারা অবরোধ সত্ত্বেও টিকে থাকতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সুবিধাজনক অবস্থানে নেই যার ফলে তারা ইরানকে নিজেদের মনমতো চুক্তি করতে বাধ্য করতে পারবে। এখন যে ধরনের চুক্তি হতে পারে তা মার্কিন ভোটাদের মনপূত নয়। এদিকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য চলতে থাকা যুদ্ধবিরতিতে উভয়দেশ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডস করপসের (আইআরজিসি) অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ পার হতে দিচ্ছে না তেহরান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কিছু নৌযানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এবং তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।
একই সময়ে ইরানও বিদেশি জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকেও। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও এসেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের চাপেও অন্তত ৪ মাস অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে।
এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তৎক্ষণাৎ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে ফেলতে পারবে না। বরং তেহরান কিছু সময় পর্যন্ত বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে। তবে এ নিয়ে মতবিরোধও রয়েছে। অন্য এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে এবং ধীরে ধীরে সংকট গভীর হচ্ছে। এর ফলে একই রিপোর্ট ঘিরে দুই ধরনের ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। একদিকে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত, অন্যদিকে ইরানের অর্থনীতিতে ধসের পূর্বাভাস।
অপরদিকে সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকা হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে সংঘর্ষের খবরে পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের ২০ ভাগ পরিবাহিত হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে সেখানে টানটান উত্তেজনা চলছে বলে জানানো হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে আছে। এর আগে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান একাধিকবার এই অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইরান বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে হামলা করেছে। কূটনীতি বনাম যুদ্ধ একসাথে চলছে দুইদেশের মধ্যে। একদিকে শান্তি আলোচনার চেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক চাপ এই দুই পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, যুদ্ধ থামাতে একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটন এখন তাদের জবাবের অপেক্ষা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, তারা রাতের মধ্যেই জবাব চান ইরানের নিকট হতে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি অভিযোগ করেছেন, প্রতিবারই যখন কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, তখন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা বাড়িয়ে দেয়।
তিনি এক পেছন থেকে ছুরি মারার সমতুল্য বলেও আখ্যা দেন। যুদ্ধের এই অবস্থা চলামান থাকায় শিপিং রুট নিয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কোনো জাহাজ কোম্পানী ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হতে চায় না। এদিকে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞার চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে তারা। ইরানের ড্রোন ও অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে চীন ও হংকংয়ের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।




