ইরান যুদ্ধে যেভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে চীন
পোস্ট ডেস্ক :

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে চীনের ভূমিকা নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। টানা ৭০ দিনের এই উত্তেজনা মধ্যেও নিজেদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখছে চীন।
আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য তুলে ধরেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহানাদ সেলুম।
তিনি বলেন, চীন একদিকে ইরানকে পুরোপুরি একা ফেলে দিতে চায় না।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রই প্রভাব বিস্তার করছে—এমনটি চায় না। যদিও যুদ্ধ পরিস্থিতি চীনের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। তবে সংঘাতে সরাসরি ইরানের পক্ষে সামরিকভাবে জড়ানো বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অধ্যাপক সেলুমের মতে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল চীন।
এর জন্য ইতিমধ্যে কিছু প্রস্তাবে চীন ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। একই সঙ্গে বেইজিং কূটনৈতিকভাবে তেহরানের পাশে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে আপাতত চীন সরাসরি সামরিক সহায়তা দিয়ে ইরানকে সমর্থন করবে না বলে মনে করছেন তিনি। কিন্তু তারপরও তার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু চীনা কম্পানি ইরানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে আলজাজিরাকে সেলুম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সামরিক সাফল্যকে কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে চাইছে। তবে ইরান সেই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
সেলুমের মতে, যুদ্ধের সূচনা যুক্তরাষ্ট্র করলেও ওয়াশিংটনের হাতে এখনো প্রতিরোধ ক্ষমতা, সামরিক সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক প্রভাব—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ইরানের হাতে খুব বেশি কৌশলগত বিকল্প নেই।
ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় বর্তমানে ইরান অনেক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ থেকে টিকে থাকা আর যুদ্ধে সফল হওয়া এক বিষয় নয়।
তবে তেহরান এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু কোনো অতিরিক্ত সুবিধা বা নিশ্চয়তা না পেলে ইরান আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে রাজি হবে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও চীন এখনো সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখছে, যাতে একদিকে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়।




