ভালুকায় কলেজ ছাত্র খুন

Published: 5 July 2021

বিশেষ সংবাদদাতা :


ময়মনসিংহের ভালুকায় গাঁজা সেবন বিয়য়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতে মো. সায়েম খান (১৯) নামে এক কলেজছাত্র খুন হয়েছেন। উপজেলার ভালুকা ইউনিয়নের মেহেরাবাড়ি এলাকায় গতকাল রবিবার (৪ জুলাই) রাতের ঘটনায় আহত হয়ে আজ সোমবার (৫ জুলাই) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মো. সায়েম খান মারা যান।

উপজেলার হবিরবাড়ি গ্রামের সিডস্টোর বাজার এলাকার মো. নাজিম উদ্দিন খানের ছেলে মো. সায়েম খান ভালুকার মনিং সান স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে সোমবার (৫ জুলাই) ভালুকা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উপজেলার মেহেরাবাড়ি গ্রামের আমান উল্যাহ (৪৮), তার ছেলে সাব্বির (২০), একই গ্রামের সোহাগ (১৯), সারোয়ার (১৯) সিডস্টোর উত্তর বাজারের আশরাফুল আলমসহ (৩৫) অজ্ঞাতনামীয় আরো ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়।

নিহতের পরিবার, স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মো. সায়েম খানের বন্ধু মিরাজ ঘটনার প্রায় তিনদিন আগে সাব্বির ও সোহাগের গাঁজা সেবন বিষয়ে ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস দেয়। এতে দুই পক্ষের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। এদিকে, রবিবার (৪ জুলাই) ঘটরার রাতে মিরাজের দেওয়া স্ট্যাটাসের জের ধরে উপজেলার মেহেরাবাড়ি এলাকায় দুপক্ষের মাঝে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারমারি হয়। এ ঘটনায় মো. সায়েম খানসহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভালুকা ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে মো. সায়েম খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার (৫ জুলাই) সকালে সে মারা যায়।

নিহত মো. সায়েম খানের চাচা আফাজ উদ্দিন খান জানান, তার ভাতিজাকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আহত মিরাজের বড় বোন সুইটি আক্তার জানান, গত রবিবার (৪ জুলাই) দুপুরে দুজন অপরিচিত ছেলে এসে তার ভাইকে মারধর করে চলে যায়। পরে রাতে ওই বিষয়ে সালিস হলে সেখানেও তার ছোট ভাইকে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় বাদীর দেওয়া অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।