সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব

অক্সফোর্ডের অ্যাশমোলিয়ানে বাংলাদেশি শিল্পের নতুন অধ্যায়

Published: 1 October 2026

পোস্ট ডেস্ক:

বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্প ও শিল্পীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে ঐতিহাসিক অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম, অক্সফোর্ড এবং সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন নতুন এক অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) -এর এক প্রতিবেদনে এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন পাবলিক মিউজিয়াম। ১৬৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত বিশ্বের প্রথম পাবলিক মিউজিয়াম হিসেবে পরিচিত।

নতুন অংশীদারিত্বের আওতায় বাংলাদেশি সমসাময়িক শিল্পকে আন্তর্জাতিক দর্শক ও গবেষকদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি মিউজিয়ামটির সংগ্রহে বাংলাদেশি শিল্পকর্ম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো – প্রতি বছর একজন বাংলাদেশি শিল্পীকে অক্সফোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো। এর মাধ্যমে শিল্পীরা অ্যাশমোলিয়ানের বিশাল সংগ্রহ, গবেষণা ও আর্কাইভের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের শিল্পচর্চাকে নতুন আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

এই উদ্যোগের প্রথম শিল্পী হিসেবে অক্সফোর্ডে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী মুনেম ওয়াসিফ।

বাংলাদেশের ইতিহাস, সমাজ ও ঔপনিবেশিক অতীত তাঁর শিল্পকর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অ্যাশমোলিয়ানে অবস্থানকালে মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক সংগ্রহ ও আর্কাইভের সঙ্গে নিজের শিল্পকর্মের সম্পর্ক অনুসন্ধানের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

বিবিসি (BBC) -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অ্যাশমোলিয়ানে বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পের একটি বিশেষ সংগ্রহ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অ্যাশমোলিয়ানের দক্ষিণ এশিয়া ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের শিল্প সংগ্রহ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য। নতুন এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্পের প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। শিল্পী, কিউরেটর, লেখক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পকে বিশ্বদর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।

ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সামদানি এই অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশ ও বিশ্বের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সেতু হিসেবে দেখছেন।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শিল্প

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাকেন্দ্র অক্সফোর্ডে বাংলাদেশি শিল্পীদের জন্য এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরি হওয়াকে বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের আন্তর্জাতিক যাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুল বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের শিল্প, ইতিহাস ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহ ও গবেষণার অংশ হয়ে উঠলে প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় আরও দৃশ্যমান হবে।

অ্যাশমোলিয়ান–সামদানি অংশীদারিত্ব তাই শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশি শিল্প ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পরিসরে আরও স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠার একটি নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

সূত্র: BBC News